মাইক্রোপেনিস কী? কারণ, লক্ষণ ও স্বাভাবিক লিঙ্গের সাইজ

মাইক্রোপেনিস বনাম স্বাভাবিক লিঙ্গের সাইজ

মাইক্রোপেনিস একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল অবস্থা, যেখানে লিঙ্গের প্রসারিত দৈর্ঘ্য একই বয়সের গড় মাপ থেকে ২.৫ স্ট্যান্ডার্ড ডিভিয়েশনের বেশি ছোট থাকে। এই কনটেন্ট মাইক্রোপেনিসের সংজ্ঞা, কারণ, লক্ষণ, নির্ণয় পদ্ধতি এবং হেকিমি ও আধুনিক মেডিসিনের চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে।

মাইক্রোপেনিস কী?

মাইক্রোপেনিস একটি জন্মগত বা হরমোনজনিত অবস্থা, যেখানে পুরুষাঙ্গের প্রসারিত দৈর্ঘ্য একই বয়স ও গঠনের স্বাভাবিক গড় মাপের চেয়ে ২.৫ স্ট্যান্ডার্ড ডিভিয়েশন কম থাকে গঠন স্বাভাবিক থাকে, শুধু আকার ছোট থাকে

মাইক্রোপেনিস নির্ণয়ে চিকিৎসক লিঙ্গকে টেনে প্রসারিত করে দৈর্ঘ্য পরিমাপ করেন। Stretched Penile Length নামক এই পরিমাপ পদ্ধতি জন্মের সময়, শৈশবে এবং বয়ঃসন্ধিকালে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করে।

এই অবস্থায় লিঙ্গের গঠন, মূত্রনালীর অবস্থান এবং অণ্ডকোষের গঠন স্বাভাবিক থাকে। শুধু সামগ্রিক আকার প্রত্যাশিত মাপ থেকে কম থাকে। এই কারণে মাইক্রোপেনিসকে হাইপোস্প্যাডিয়াস বা অন্য জন্মগত অসঙ্গতি থেকে আলাদা করা হয়।

মাইক্রোপেনিস কতটা বিরল?

মাইক্রোপেনিস প্রতি ২০০ জন নবজাতক পুরুষ শিশুর মধ্যে ১ জনের কম হারে দেখা যায়। Urology Care Foundation-এর তথ্য অনুযায়ী এই হার প্রায় ০.৬%।

স্বাভাবিক লিঙ্গের দৈর্ঘ্য ও পুরুত্ব কত?

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের স্বাভাবিক লিঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য উত্থিত অবস্থায় ১৩ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার এবং শিথিল অবস্থায় ৭ থেকে ১০ সেন্টিমিটার থাকে গড় পরিধি উত্থিত অবস্থায় ১১.৭ সেন্টিমিটার থাকে

বয়স অনুযায়ী লিঙ্গের প্রসারিত দৈর্ঘ্যের মানদণ্ড নিচের সারণিতে দেওয়া হলো। এই মাপ চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রকাশিত গবেষণার গড় মান থেকে নেওয়া।

বয়স গড় প্রসারিত দৈর্ঘ্য (সে.মি.) মাইক্রোপেনিসের সীমা (সে.মি.)
জন্মকালীন (পূর্ণ মেয়াদ) ৩.৫ ২.০ এর কম
০-৫ মাস ৪.৩ ১.৯ এর কম
৬-১২ মাস ৪.৭ ২.১ এর কম
১-২ বছর ৫.১ ২.৬ এর কম
২-৩ বছর ৫.৫ ২.৯ এর কম
প্রাপ্তবয়স্ক ১৩.৩ ৯.৩ এর কম

উপরের সারণির মান Feldman ও Smith-এর ক্লাসিক গ্রোথ স্টাডি এবং পরবর্তী পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি গবেষণা থেকে সংকলিত। প্রতিটি শিশুর পরিমাপ একই পদ্ধতিতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে করাতে হয়।

লিঙ্গের পুরুত্ব কীভাবে পরিমাপ করা হয়?

লিঙ্গের পুরুত্ব লিঙ্গের মাঝ বরাবর পরিধি মেপে নির্ধারণ করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের শিথিল অবস্থায় গড় পরিধি ৯.৩ সেন্টিমিটার এবং উত্থিত অবস্থায় ১১.৭ সেন্টিমিটার থাকে। পুরুত্বের কোনো পৃথক মেডিকেল ডেফিসিয়েন্সি ক্যাটাগরি নেই, কারণ মাইক্রোপেনিসের সংজ্ঞা কেবল দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

মাইক্রোপেনিসের কারণ কী কী?

মাইক্রোপেনিসের প্রধান ৪টি কারণ হলো হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম, গ্রোথ হরমোনের অভাব, ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম এবং গর্ভাবস্থায় ভ্রূণে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি প্রতিটি কারণ ভ্রূণের লিঙ্গ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে

মাইক্রোপেনিসের কারণগুলো ৪টি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত, যেমন: হরমোনজনিত কারণ, জিনগত কারণ, ভ্রূণ-বিকাশজনিত কারণ এবং অজ্ঞাত কারণ।

. হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম

হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম এমন একটি অবস্থা, যেখানে পিটুইটারি গ্রন্থি পর্যাপ্ত লুটিনাইজিং হরমোন ও ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন তৈরি করে না। এই হরমোনের অভাবে অণ্ডকোষ পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরন তৈরি করতে পারে না, যার ফলে গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে লিঙ্গের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

কলম্যান সিনড্রোম এই হাইপোগোনাডিজমের একটি নির্দিষ্ট জিনগত রূপ, যেখানে ঘ্রাণশক্তি হ্রাসের সাথে মাইক্রোপেনিস একসাথে দেখা যায়।

. গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি

গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি ভ্রূণ ও নবজাতকের সামগ্রিক বৃদ্ধিকে ধীর করে দেয়। লিঙ্গের টিস্যু বৃদ্ধির জন্য ইনসুলিন-লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর-১ (IGF-1) প্রয়োজন হয়, যা গ্রোথ হরমোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই হরমোনের ঘাটতি হলে লিঙ্গের চূড়ান্ত আকার প্রত্যাশিত মাপের চেয়ে ছোট থাকে।

. ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম

ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম একটি ক্রোমোজোমজনিত অবস্থা, যেখানে পুরুষের কোষে একটি অতিরিক্ত X ক্রোমোজোম থাকে (৪৭,XXY)। এই অতিরিক্ত ক্রোমোজোম অণ্ডকোষের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং টেস্টোস্টেরন উৎপাদন ব্যাহত করে, যার ফলে মাইক্রোপেনিস ও অণ্ডকোষের অসম্পূর্ণ বৃদ্ধি দেখা দেয়।

. অজ্ঞাত কারণ (Idiopathic)

মাইক্রোপেনিসের ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট হরমোনজনিত বা জিনগত কারণ পাওয়া যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই শ্রেণিকে ইডিওপ্যাথিক মাইক্রোপেনিস বলা হয়।

লিঙ্গ কেন ছোট ও চিকন হয়ে যায়?

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের লিঙ্গ ছোট ও চিকন দেখানোর প্রধান ৫টি কারণ হলো স্থূলতা, বার্ধক্যজনিত টেস্টোস্টেরন হ্রাস, পেরোনিস ডিজিজ, রক্তনালীর সংকীর্ণতা এবং দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান এই কারণগুলো প্রকৃত অঙ্গের আকার পরিবর্তন না করেই দৃশ্যমান আকার কমায়

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ ছোট বা চিকন দেখানোর কারণ মাইক্রোপেনিসের কারণ থেকে ভিন্ন। এই কারণগুলো জন্মগত নয়, বরং জীবনযাত্রা ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনজনিত।

স্থূলতা ও পিউবিক ফ্যাট প্যাড

তলপেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে লিঙ্গের গোড়া ফ্যাট টিস্যুর নিচে ঢাকা পড়ে যায়। এই অবস্থাকে Buried Penis বা Concealed Penis বলা হয়। প্রকৃত লিঙ্গের আকার অপরিবর্তিত থাকলেও দৃশ্যমান দৈর্ঘ্য কমে যায়। ওজন হ্রাস করলে এই দৃশ্যমান দৈর্ঘ্য পুনরায় বৃদ্ধি পায়।

বার্ধক্যজনিত টেস্টোস্টেরন হ্রাস

৪০ বছর বয়সের পর পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ হারে কমতে থাকে। টেস্টোস্টেরন হ্রাসের ফলে লিঙ্গের টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ কমে যায় এবং লিঙ্গ শিথিল অবস্থায় তুলনামূলক ছোট দেখায়।

পেরোনিস ডিজিজ

পেরোনিস ডিজিজ লিঙ্গের ভেতরের টিস্যুতে দাগ টিস্যু (Scar Tissue) তৈরি করে। এই দাগ টিস্যু লিঙ্গকে বাঁকিয়ে দেয় এবং উত্থানের সময় কার্যকর দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেয়।

রক্তনালীর সংকীর্ণতা (Atherosclerosis)

রক্তনালীর প্রাচীরে চর্বি জমে সংকীর্ণ হয়ে গেলে লিঙ্গের টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ ছাড়া উত্থিত অবস্থায় লিঙ্গের সম্পূর্ণ আকার অর্জিত হয় না।

ধূমপান ও নিকোটিনের প্রভাব

নিকোটিন রক্তনালী সংকুচিত করে এবং লিঙ্গের টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমায়। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপানকারী পুরুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গের উত্থিত দৈর্ঘ্য অধূমপায়ীদের তুলনায় কম রেকর্ড করা হয়েছে।

হেকিমি (ইউনানি) দৃষ্টিকোণে লিঙ্গের দুর্বলতা

ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে লিঙ্গের দুর্বলতা ও আকার হ্রাসকে সুয়ে মিজাজ বারিদ ওয়া রাতুব অর্থাৎ ঠান্ডা ও আর্দ্র মেজাজের প্রাধান্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এই মেজাজ বৈষম্য প্রজনন অঙ্গের রক্ত সঞ্চালন ও পুষ্টি সরবরাহ কমিয়ে দেয় বলে হেকিমি সাহিত্যে বর্ণিত আছে। Akhlat বা চার তরলের ভারসাম্যহীনতাকেও এই দুর্বলতার একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মাইক্রোপেনিসের লক্ষণ কী কী?

মাইক্রোপেনিসের প্রধান লক্ষণ হলো জন্মের সময় থেকেই লিঙ্গের প্রসারিত দৈর্ঘ্য বয়সভিত্তিক স্বাভাবিক মাপের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকা অণ্ডকোষের গঠন, মূত্রনালীর অবস্থান এবং যৌনাঙ্গের অন্যান্য গঠন স্বাভাবিক থাকে

  • জন্মের সময় লিঙ্গের দৈর্ঘ্য ১.৯ সেন্টিমিটারের কম থাকা।
  • বয়ঃসন্ধিকালে লিঙ্গের স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া।
  • অণ্ডকোষের আকার ছোট থাকা (কিছু ক্ষেত্রে)।
  • মুখমণ্ডলের লোম ও শরীরের পেশি গঠনে বিলম্ব হওয়া।
  • কণ্ঠস্বর পরিবর্তনে বিলম্ব হওয়া।

উপরের লক্ষণগুলোর মধ্যে শেষ ৩টি লক্ষণ হরমোনজনিত কারণে সৃষ্ট মাইক্রোপেনিসে বেশি দেখা যায়, ইডিওপ্যাথিক মাইক্রোপেনিসে নয়।

মাইক্রোপেনিস কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

মাইক্রোপেনিস নির্ণয়ে চিকিৎসক স্ট্রেচড পেনাইল লেংথ পরিমাপ করেন এবং তার সাথে হরমোন পরীক্ষা, ক্রোমোজোম বিশ্লেষণ ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেন এই ৩টি পরীক্ষা একসাথে মূল কারণ শনাক্ত করে

স্ট্রেচড পেনাইল লেংথ পরিমাপ

চিকিৎসক পিউবিক হাড়ের গোড়া থেকে লিঙ্গমুণ্ডের অগ্রভাগ পর্যন্ত লিঙ্গকে টেনে প্রসারিত করে দৈর্ঘ্য মাপেন। এই মাপ বয়সভিত্তিক মানদণ্ডের সাথে তুলনা করা হয়।

হরমোন পরীক্ষা

রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরন, লুটিনাইজিং হরমোন, ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন এবং গ্রোথ হরমোনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এই পরীক্ষা হরমোনজনিত কারণ শনাক্ত করে।

ক্রোমোজোম বিশ্লেষণ (Karyotyping)

ক্রোমোজোম বিশ্লেষণ ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোমসহ অন্যান্য জিনগত অসঙ্গতি শনাক্ত করে। এই পরীক্ষায় রক্তের নমুনা থেকে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গঠন পরীক্ষা করা হয়।

hCG স্টিমুলেশন টেস্ট

hCG স্টিমুলেশন টেস্ট অণ্ডকোষের টেস্টোস্টেরন উৎপাদন ক্ষমতা যাচাই করে। এই পরীক্ষায় hCG ইনজেকশন দেওয়ার পর টেস্টোস্টেরনের প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা হয়।

মাইক্রোপেনিসের চিকিৎসা পদ্ধতি কী কী?

মাইক্রোপেনিসের প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি ৩টি — টপিক্যাল বা ইনজেকশন টেস্টোস্টেরন থেরাপি, মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ এবং হেকিমি মেজাজ-সংশোধনী চিকিৎসা শৈশবে হরমোন থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর ফল দেয়

টেস্টোস্টেরন থেরাপি

শিশুকালে টপিক্যাল বা ইনজেকশনযোগ্য টেস্টোস্টেরন প্রয়োগ লিঙ্গের টিস্যু বৃদ্ধি উদ্দীপিত করে। এই থেরাপি সাধারণত ৩ মাস পর্যন্ত স্বল্প-মেয়াদী কোর্সে দেওয়া হয় এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গ্রোথ হরমোন থেরাপি

গ্রোথ হরমোনের ঘাটতিজনিত মাইক্রোপেনিসে রিকম্বিন্যান্ট গ্রোথ হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। এই থেরাপি সামগ্রিক শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি লিঙ্গের বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ

মাইক্রোপেনিস আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সেলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হয়।

হেকিমি মেজাজ-সংশোধনী চিকিৎসা

ইউনানি চিকিৎসায় মুকাওয়ি বাহ শ্রেণির ভেষজ প্রজনন অঙ্গের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। এই চিকিৎসা মেজাজের ঠান্ডা-আর্দ্র ভারসাম্যহীনতা সংশোধন করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। হরমোনজনিত মাইক্রোপেনিসের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা আধুনিক হরমোন থেরাপির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিকল্প হিসেবে নয়।

অস্ত্রোপচার কি প্রয়োজন হয়?

Urology Care Foundation-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী শিশুকালে লিঙ্গ দীর্ঘায়ন অস্ত্রোপচার সুপারিশ করা হয় না। প্রাপ্তবয়স্ক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের ফলাফল অনিশ্চিত এবং জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিবেচিত হয়।

মাইক্রোপেনিস নিয়ে কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?

মাইক্রোপেনিস সন্দেহ হলে নিজে থেকে কোনো ওষুধ বা টেস্টোস্টেরন প্রয়োগ না করে পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক ভুল সময়ে বা ভুল মাত্রায় হরমোন প্রয়োগ ভবিষ্যৎ বৃদ্ধিতে ক্ষতি করতে পারে

  • অনুমোদনহীন টেস্টোস্টেরন জেল বা ইনজেকশন ব্যবহার না করা।
  • অনলাইনে বিজ্ঞাপিত লিঙ্গ দীর্ঘায়নকারী ওষুধ এড়িয়ে চলা।
  • মেকানিক্যাল ট্র্যাকশন ডিভাইস চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার না করা।
  • শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের পর প্রথম পরীক্ষাতেই এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের কাছে রেফার করা।

মাইক্রোপেনিস সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর

মাইক্রোপেনিস কি বংশগত রোগ?

মাইক্রোপেনিস প্রত্যক্ষভাবে বংশগত রোগ নয়, তবে ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোমের মতো কিছু জিনগত অবস্থা পারিবারিক ধারায় সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্র হরমোনজনিত বা অজ্ঞাত কারণে ঘটে।

মাইক্রোপেনিস কি বড় হয়ে ঠিক হয়ে যায়?

মাইক্রোপেনিস নিজে থেকে ঠিক হয় না। সঠিক সময়ে হরমোন থেরাপি প্রয়োগ করলে লিঙ্গের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, বিশেষত শৈশবে চিকিৎসা শুরু করলে।

প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মাইক্রোপেনিস নির্ণয় হলে কী করণীয়?

প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় নির্ণয় হলে ইউরোলজিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের সমন্বিত মূল্যায়ন প্রয়োজন। হরমোন মাত্রা পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী টেস্টোস্টেরন থেরাপি ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দেওয়া হয়।

মাইক্রোপেনিস কি উর্বরতা কমিয়ে দেয়?

মাইক্রোপেনিস নিজে উর্বরতা কমায় না, কারণ শুক্রাণু উৎপাদন অণ্ডকোষে হয়, লিঙ্গের আকারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবে অন্তর্নিহিত হরমোনজনিত কারণ উর্বরতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

লিঙ্গের সাইজ বৃদ্ধির কোনো নিরাপদ ঘরোয়া উপায় আছে কি?

চিকিৎসাবিজ্ঞান-স্বীকৃত কোনো ঘরোয়া পদ্ধতি লিঙ্গের স্থায়ী আকার বৃদ্ধি করে না। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হরমোন থেরাপি এবং হেকিমি মেজাজ-সংশোধনী চিকিৎসাই একমাত্র প্রমাণ-সমর্থিত পদ্ধতি।

মাইক্রোপেনিস ও ছোট লিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য কী?

মাইক্রোপেনিস একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল সংজ্ঞা, যেখানে দৈর্ঘ্য পরিসংখ্যানগতভাবে ২.৫ স্ট্যান্ডার্ড ডিভিয়েশনের বেশি কম থাকে। এর বাইরে স্বাভাবিক পরিসরের মধ্যে থাকা তুলনামূলক ছোট লিঙ্গ কোনো রোগ নয়।

উপসংহার

মাইক্রোপেনিস একটি নির্ণয়যোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য মেডিকেল অবস্থা, যেখানে সঠিক সময়ে হরমোন থেরাপি প্রয়োগ করলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। স্বাভাবিক পরিসরের মধ্যে থাকা আকার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। লিঙ্গের আকার বা গঠন নিয়ে কোনো সংশয় থাকলে হেকিম মোঃ সুলতান মাহমুদের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন। হাকিমসুলতান.কম-এ ইউনানি ও আধুনিক চিকিৎসার সমন্বিত পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করুন।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

১. Urology Care Foundation — Micropenis. American Urological Association. https://www.urologyhealth.org/urology-a-z/m/micropenis

২. Cleveland Clinic — Micropenis: Causes, Symptoms, Diagnosis and Treatment. https://my.clevelandclinic.org/health/diseases/22866-micropenis

৩. Feldman, K.W. & Smith, D.W. (1975) — Fetal phallic growth and penile standards for newborn male infants. Journal of Pediatrics.

৪. Mayo Clinic — Klinefelter Syndrome: Symptoms and Causes. https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/klinefelter-syndrome/symptoms-causes/syc-20353949

৫. Wessells, H. et al. (1996) — Penile length in the flaccid and erect states. Journal of Urology.

ডিসক্লেইমার: এই কনটেন্ট শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে প্রস্তুত কোনো চিকিৎসা শুরুর আগে যোগ্য চিকিৎসক বা হেকিমের সরাসরি পরামর্শ নিন

হেকিম সুলতান
লেখক সম্পর্কে

হেকিম সুলতান

BUMS, খুলনা ইউনানি মেডিকেল কলেজ