নারীদের অর্গাজমের সিক্রেটস: দ্রুত ও শক্তিশালী অর্গাজম ঘটানোর ৭টি বৈজ্ঞানিক কৌশল

নারীর অর্গাজম, শারীরবিজ্ঞান ও যৌন স্বাস্থ্যের সম্পর্ক

নারীদের অর্গাজম একটি শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া যা যৌন উত্তেজনার সর্বোচ্চ বিন্দুতে পেলভিক পেশিতে ৩ থেকে ১৫টি দ্রুত সংকোচনের মাধ্যমে ঘটে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ৭টি কৌশল প্রয়োগ করে দ্রুত ও তীব্র অর্গাজম অর্জন করা সম্ভব।

নারীদের অর্গাজম কী এবং এটি কীভাবে ঘটে?

নারীদের অর্গাজম হলো যৌন উদ্দীপনার চরমবিন্দুতে পেলভিক জরায়ু পেশিতে . সেকেন্ড ব্যবধানে ১৫টি অনৈচ্ছিক সংকোচন, যেখানে অক্সিটোসিন ও ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয় এবং সমগ্র শরীরে তাপ ও শিথিলতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে।

অর্গাজম (Orgasm) শব্দটি গ্রিক “orgasmos” থেকে এসেছে, অর্থ “উত্তেজনার পরিপক্বতা”। শরীরবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি Masters & Johnson-এর চার ধাপের যৌন প্রতিক্রিয়া চক্রের তৃতীয় ধাপ।

অর্গাজমের সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে?

অর্গাজমের সময় মস্তিষ্কের ৩০টিরও বেশি অঞ্চল একযোগে সক্রিয় হয়। নিউক্লিয়াস অ্যাকম্বেন্স (Nucleus Accumbens)  মস্তিষ্কের পুরস্কার কেন্দ্র  ডোপামিন নিঃসরণ করে। হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus) অক্সিটোসিন মুক্ত করে। প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex) সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়, যার ফলে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি কমে যায়।

নারীদের অর্গাজমের ৫টি ধরন কী কী?

নারীদের অর্গাজমের ৫টি প্রধান ধরন হলো: ক্লিটোরাল অর্গাজম, ভ্যাজাইনাল অর্গাজম, জিস্পট অর্গাজম, সার্ভিকাল অর্গাজম এবং ব্লেন্ডেড অর্গাজম

১। ক্লিটোরাল অর্গাজম (Clitoral Orgasm): ক্লিটোরিসে সরাসরি উদ্দীপনার মাধ্যমে ঘটে। ৭০–৮০% নারীর প্রধান অর্গাজমের উৎস।

২। ভ্যাজাইনাল অর্গাজম (Vaginal Orgasm): যোনির ভিতরে উদ্দীপনার মাধ্যমে ঘটে। মাত্র ১৮–২৫% নারীর ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে।

৩। জি-স্পট অর্গাজম (G-Spot Orgasm): যোনির সামনের দেয়ালে ২–৩ ইঞ্চি গভীরে অবস্থিত জি-স্পট উদ্দীপনায় ঘটে।

৪। সার্ভিকাল অর্গাজম (Cervical Orgasm): জরায়ুমুখে গভীর উদ্দীপনায় ঘটে, সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে।

৫। ব্লেন্ডেড অর্গাজম (Blended Orgasm): একাধিক অঞ্চল একসাথে উদ্দীপিত হলে ঘটে, সবচেয়ে তীব্র অনুভূতি দেয়।

নারীদের অর্গাজম ঘটানোর ৭টি বৈজ্ঞানিক কৌশল কী কী?

নারীদের দ্রুত অর্গাজম ঘটানোর ৭টি বৈজ্ঞানিক কৌশল হলো: ক্লিটোরাল স্টিমুলেশন, জিস্পট অ্যাক্টিভেশন, কেগেল ব্যায়াম, শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ, মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস, সঠিক যোগাযোগ এবং হার্বাল সাপোর্ট

কৌশল ১: ক্লিটোরাল স্টিমুলেশন

ক্লিটোরিস (Clitoris) হলো নারী যৌনাঙ্গের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ, যেখানে ৮,০০০টিরও বেশি স্নায়ু প্রান্ত (Nerve Endings) রয়েছে — পুরুষের পুরো পেনিসের চেয়ে ২ গুণ বেশি। ক্লিটোরাল হুড (Clitoral Hood) সরিয়ে সরাসরি ক্লিটোরিসে ধীরে ধীরে চাপ প্রয়োগ করা হলে ৮–১৫ মিনিটের মধ্যে অর্গাজম ঘটে।

ক্লিটোরাল স্টিমুলেশনের ৩টি কার্যকর পদ্ধতি

  • সার্কুলার মোশন: আঙুল দিয়ে ক্লিটোরিসে ঘড়ির কাঁটার দিকে ৩–৫ সেকেন্ড বিরতিতে বৃত্তাকার নড়াচড়া করা।
  • আপ-ডাউন মোশন: উপর-নিচে হালকা চাপ সহ ছন্দবদ্ধ নড়াচড়া, প্রতি সাইকেল ১–২ সেকেন্ড।
  • ভাইব্রেশন: ভাইব্রেটর ব্যবহারে ৫–৭ মিনিটে অর্গাজম সম্ভব — Journal of Sexual Medicine (2017) নিশ্চিত করেছে।

কৌশল ২: জি-স্পট অ্যাক্টিভেশন

জি-স্পট (G-Spot) বা গ্রাফেনবার্গ স্পট (Gräfenberg Spot) হলো যোনির সামনের দেয়ালে ২–৩ ইঞ্চি (৫–৭.৫ সেমি) ভিতরে অবস্থিত একটি উত্থিত টেক্সচারযুক্ত অঞ্চল। এই অঞ্চলে “come here” বা হুক মোশনে (বাঁকানো আঙুলে) ১০–২০ মিনিট উদ্দীপনা দিলে তীব্র ভ্যাজাইনাল অর্গাজম ঘটে।

কৌশল ৩: কেগেল ব্যায়াম দিয়ে পেলভিক ফ্লোর শক্তিশালী করা

কেগেল ব্যায়াম (Kegel Exercise) হলো পেলভিক ফ্লোর পেশি (Pubococcygeus Muscle বা PC Muscle) সংকোচন ও শিথিলকরণের ব্যায়াম। International Urogynecology Journal (2019)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ৬ সপ্তাহ নিয়মিত কেগেল ব্যায়ামে ৬৫% নারীর অর্গাজমের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।

কেগেল ব্যায়ামের ৪ ধাপ

  • পেশি চিহ্নিত করুন: প্রস্রাব বন্ধ করার মতো পেশি সংকোচন করুন।
  • সংকোচন ধরে রাখুন: ৩–৫ সেকেন্ড সংকোচন ধরে রাখুন।
  • শিথিল করুন: ৩–৫ সেকেন্ড সম্পূর্ণ শিথিল করুন।
  • পুনরাবৃত্তি: প্রতিদিন ৩ সেটে ১০–১৫ বার করুন।

কৌশল ৪: শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ

ডায়াফ্রাম্যাটিক ব্রিদিং (Diaphragmatic Breathing) পেলভিক অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন ২৫% বৃদ্ধি করে। গভীর শ্বাস নেওয়ার সময় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত যৌনাঙ্গে পৌঁছায়, সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং অর্গাজমের গতি ত্বরান্বিত করে।

কৌশল ৫: মাইন্ডফুলনেস ও মানসিক সংযোগ

Journal of Sex & Marital Therapy (2014)-এর গবেষণায় প্রমাণিত, মাইন্ডফুলনেস (Mindfulness) অনুশীলনকারী নারীদের অর্গাজমের হার ৩৮% বেশি। মস্তিষ্ক থেকে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখলে যৌন উদ্বেগ কমে ৪৭% এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

কৌশল ৬: অংশীদারের সাথে সঠিক যোগাযোগ

Archives of Sexual Behavior (2018)-এর তথ্য অনুযায়ী, যৌন পছন্দ নিয়ে সরাসরি কথা বলা নারীদের অর্গাজমের সম্ভাবনা ৪৪% বৃদ্ধি করে। নির্দিষ্ট নির্দেশনা — যেমন গতি, চাপ ও অবস্থান — জানানো সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

কৌশল ৭: হার্বাল ও প্রাকৃতিক সাপোর্ট

যৌন শক্তি ও সংবেদনশীলতা বৃদ্ধিতে ৩টি প্রমাণিত ভেষজ উপাদান কার্যকর: অশ্বগন্ধা (Withania Somnifera) কর্টিসল ৩০% কমিয়ে যৌন উদ্বেগ হ্রাস করে; মাকা রুট (Lepidium Meyenii) যৌনইচ্ছা ৪৭% বৃদ্ধি করে; শতাবরী (Asparagus Racemosus) এস্ট্রোজেন ব্যালেন্স রক্ষা করে যোনির আর্দ্রতা বজায় রাখে।

যৌন শক্তি বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায় কী কী?

যৌন শক্তি বাড়ানোর ৬টি প্রমাণিত প্রাকৃতিক উপায় হলো: পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ হ্রাস, হরমোন ব্যালেন্স রক্ষা এবং ভেষজ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার

যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ৮টি খাদ্য উপাদান

  • ডার্ক চকোলেট (Dark Chocolate): ফেনাইলইথাইলামিন (PEA) নিঃসরণে ডোপামিন বৃদ্ধি করে।
  • অ্যাভোকাডো (Avocado): ভিটামিন B6 ও পটাশিয়াম হরমোন সংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • বেদানা (Pomegranate): ৪৮% পর্যন্ত রক্তে টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি করে (International Journal of Impotence Research, 2007)।
  • কুমড়ার বীজ (Pumpkin Seeds): জিঙ্ক (Zinc) যৌন হরমোন উৎপাদনে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
  • রসুন (Garlic): অ্যালিসিন (Allicin) যৌনাঙ্গে রক্তপ্রবাহ ২৮% বৃদ্ধি করে।
  • ডিম (Eggs): ভিটামিন D ও B5 অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিকে সুস্থ রাখে, যা যৌন হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে।
  • সামুদ্রিক মাছ (Fatty Fish): ওমেগা-৩ (Omega-3) প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন উৎপাদন করে যোনির আর্দ্রতা বজায় রাখে।
  • আমলকী (Amla): ভিটামিন C অক্সিটোসিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।

যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যায়ামের ভূমিকা কী?

Journal of Sexual Medicine (2018)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৩ দিন ৩০ মিনিট কার্ডিও ব্যায়াম নারীদের যৌন উদ্দীপনা ১৬৯% বৃদ্ধি করে। ব্যায়াম নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) উৎপাদন বাড়িয়ে যৌনাঙ্গে রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করে।

অর্গাজম না হওয়ার কারণ কী কী?

নারীদের অর্গাজম না হওয়ার ৬টি প্রধান কারণ হলো: অ্যানোর্গাজমিয়া, হরমোন ভারসাম্যহীনতা, মনস্তাত্ত্বিক বাধা, পর্যাপ্ত ফোরপ্লের অভাব, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং শ্রোণী পেশির দুর্বলতা

অ্যানোর্গাজমিয়া কী?

অ্যানোর্গাজমিয়া (Anorgasmia) হলো পর্যাপ্ত যৌন উদ্দীপনা সত্ত্বেও অর্গাজমে পৌঁছাতে অক্ষমতার একটি চিকিৎসা অবস্থা। American College of Obstetricians and Gynecologists (ACOG)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০–১৫% নারী জীবনে কোনো না কোনো সময়ে অ্যানোর্গাজমিয়ায় ভোগেন। ৪টি ধরন রয়েছে: প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, সিচুয়েশনাল এবং জেনারালাইজড।

হরমোন ভারসাম্যহীনতা কীভাবে অর্গাজমকে প্রভাবিত করে?

ইস্ট্রোজেন (Estrogen) মাত্রা কমলে যোনির আর্দ্রতা হ্রাস পায় এবং সংবেদনশীলতা ৪০% কমে। টেস্টোস্টেরন (Testosterone) — যা নারীদেহেও অল্প পরিমাণে থাকে — কমলে যৌনইচ্ছা সরাসরি হ্রাস পায়। থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা যৌন প্রতিক্রিয়া চক্রকে ব্যাহত করে।

কোন ওষুধ অর্গাজম বাধাগ্রস্ত করে?

৩ শ্রেণির ওষুধ অর্গাজম বাধাগ্রস্ত করে: SSRI এন্টিডিপ্রেসেন্ট (যেমন Fluoxetine, Sertraline) ৩০–৪০% নারীতে যৌন কর্মহীনতা সৃষ্টি করে; হরমোনাল গর্ভনিরোধক বড়ি ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন কমায়; বিটা-ব্লকার (যেমন Propranolol) পেলভিক রক্তপ্রবাহ কমায়।

ফোরপ্লে কীভাবে দ্রুত অর্গাজম ঘটাতে সাহায্য করে?

ফোরপ্লে (Foreplay) যৌন উদ্দীপনার আগাম পর্যায়, যেখানে কমপক্ষে ১৫২০ মিনিট শারীরিক মানসিক উদ্দীপনা নারীদের ক্লিটোরাল ইরেকশন ঘটায়, যোনি লুব্রিকেশন নিশ্চিত করে এবং অর্গাজমের সময় ৩৫% কমায়

Journal of Sex Research (2016)-এর তথ্য অনুযায়ী, ফোরপ্লের গড় আদর্শ সময় ১৮ মিনিট। এই সময় ক্লিটোরিস ইরেক্ট হয়, যোনি ২–৩ ইঞ্চি প্রসারিত হয় এবং ব্লাড ফ্লো ৮ গুণ বৃদ্ধি পায়।

ফোরপ্লের ৫টি কার্যকর পদ্ধতি

  • স্পর্শ: সংবেদনশীল অঞ্চল — ঘাড়, কান, ভেতরের উরু, বুক — ১০–১৫ মিনিট স্পর্শ করা।
  • চুম্বন: গভীর চুম্বন অক্সিটোসিন নিঃসরণ ৩ গুণ বৃদ্ধি করে।
  • মৌখিক উদ্দীপনা (Oral Stimulation): কানিলিঙ্গাস (Cunnilingus) সরাসরি ক্লিটোরাল অর্গাজম ঘটায়।
  • মৃদু মালিশ: পেলভিক এলাকায় ৫–১০ মিনিট সেন্সুয়াল মালিশ রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
  • মনস্তাত্ত্বিক উদ্দীপনা: ঘনিষ্ঠ কথোপকথন ও মানসিক সংযোগ যৌন উত্তেজনা প্রস্তুত করে।

নারীর যৌন স্বাস্থ্যে কোন সমস্যাগুলো চিকিৎসা প্রয়োজন?

নারীর যৌন স্বাস্থ্যের ৫টি সমস্যায় চিকিৎসা প্রয়োজন: হাইপোঅ্যাক্টিভ সেক্সুয়াল ডিজায়ার ডিসঅর্ডার (HSDD), জেনিটোপেলভিক পেইন ডিসঅর্ডার (GPPPD), ফিমেল সেক্সুয়াল অ্যারোজাল ডিসঅর্ডার (FSAD), ডিসপারিউনিয়া এবং ভ্যাজিনিসমাস

হাইপোঅ্যাক্টিভ সেক্সুয়াল ডিজায়ার ডিসঅর্ডার (HSDD) কী?

HSDD (Hypoactive Sexual Desire Disorder) হলো যৌনইচ্ছার দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি বা হ্রাস, যা ব্যক্তিগত যন্ত্রণা সৃষ্টি করে। এটি নারীদের সবচেয়ে সাধারণ যৌন কর্মহীনতা এবং ৩২% প্রাক-মেনোপজাল ও ৪৫% পোস্ট-মেনোপজাল নারীকে প্রভাবিত করে।

ডিসপারিউনিয়া ও ভ্যাজিনিসমাস কী?

ডিসপারিউনিয়া (Dyspareunia) হলো যৌন মিলনের সময় বা পরে যোনিতে বা পেলভিসে ব্যথার অবস্থা। ভ্যাজিনিসমাস (Vaginismus) হলো যোনির প্রবেশদ্বারের পেশিতে অনৈচ্ছিক খিঁচুনি যা প্রবেশকে বেদনাদায়ক বা অসম্ভব করে। উভয় ক্ষেত্রেই পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি প্রথম চিকিৎসা পদ্ধতি।

অর্গাজম বৃদ্ধিতে কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?

অর্গাজম বৃদ্ধির সময় ৪টি বিষয়ে সতর্কতা জরুরি: অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ এড়ানো, যোনি সংক্রমণের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ, অব্যাহত ব্যথায় চিকিৎসক পরামর্শ নেওয়া এবং হরমোন সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া না নেওয়া

  • ক্লিটোরিসে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ স্নায়ু ক্ষতি ঘটায়। সবসময় মৃদু থেকে মাঝারি চাপ ব্যবহার করুন।
  • যোনি থেকে অস্বাভাবিক গন্ধ বা স্রাব দেখা দিলে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস বা ইস্ট ইনফেকশনের পরীক্ষা করুন।
  • যৌন উদ্দীপনার সময় ব্যথা টানা ৩ সপ্তাহ থাকলে গাইনোকোলজিস্ট দেখান।
  • ইস্ট্রোজেন বা টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট শুধুমাত্র হরমোন পরীক্ষার পর চিকিৎসকের পরামর্শে নিন।

নারীদের অর্গাজম সম্পর্কে প্রায়শই প্রশ্নোত্তর

নারীদের অর্গাজম হতে গড়ে কত সময় লাগে?

নারীদের অর্গাজম হতে গড়ে ১৩২০ মিনিট সময় লাগে। Journal of Sexual Medicine (2017)-এর গবেষণায় ৬,৪৫১ জন নারীর উপর পরীক্ষায় এই গড় নির্ধারিত হয়েছে। পুরুষের ক্ষেত্রে এটি গড়ে ৫–৭ মিনিট।

নারীর মাল্টিপল অর্গাজম কী সত্যিই সম্ভব?

নারীর মাল্টিপল অর্গাজম সত্যিই সম্ভব এবং ১৪২৬% নারী এটি অনুভব করেন নারীদের রিফ্র্যাক্টরি পিরিয়ড (পুনরুদ্ধারের সময়) পুরুষের তুলনায় অনেক কম। প্রথম অর্গাজমের ১–৩ মিনিটের মধ্যে পুনরায় উদ্দীপনা দিলে দ্বিতীয় অর্গাজম ঘটে।

কেন কিছু নারীর অর্গাজম খুব কমই হয়?

৩টি কারণে কিছু নারীর অর্গাজম কম হয়: অপর্যাপ্ত ক্লিটোরাল স্টিমুলেশন (৭০% ক্ষেত্রে), মনস্তাত্ত্বিক বাধা এবং শারীরিক হরমোন সমস্যা ৮০% নারীর ভ্যাজাইনাল পেনেট্রেশনে একা অর্গাজম হয় না — তাদের ক্লিটোরাল উদ্দীপনা অতিরিক্তভাবে প্রয়োজন।

অর্গাজম কি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

অর্গাজম স্বাস্থ্যের জন্য ৫টি উপায়ে উপকারী: রোগ প্রতিরোধক IgA অ্যান্টিবডি ৩০% বৃদ্ধি, কর্টিসল ৫০% হ্রাস, অক্সিটোসিন নিঃসরণে বন্ধন শক্তিশালী, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নিঃসরণে মাসিক ব্যথা উপশম এবং ঘুমের মান উন্নতি

মেনোপজের পর কি অর্গাজম সম্ভব?

মেনোপজের পর অর্গাজম সম্ভব, তবে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগে ইস্ট্রোজেন কমায় যোনির আর্দ্রতা কমে ও সংবেদনশীলতা হ্রাস পায়। লুব্রিকেন্ট ব্যবহার, কেগেল ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে হরমোন থেরাপি দিয়ে মেনোপজ পরবর্তী সময়েও সক্রিয় যৌন জীবন বজায় রাখা যায়।

কোন যৌন অবস্থান নারীর অর্গাজমে সবচেয়ে সহায়ক?

নারীর অর্গাজমে ৩টি অবস্থান সবচেয়ে কার্যকর: কাউগার্ল (Cowgirl), কোরা (Coital Alignment Technique বা CAT) এবং স্পুনিং (Spooning) কাউগার্ল অবস্থানে নারী ক্লিটোরাল ঘর্ষণ নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। CAT অবস্থানে পুরুষের পেলভিক হাড় সরাসরি ক্লিটোরিস স্পর্শ করে।

অর্গাজম না হলে কখন ডাক্তার দেখাবেন?

৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে অর্গাজমে অক্ষমতা বা তীব্র ব্যথা থাকলে গাইনোকোলজিস্ট বা সেক্স থেরাপিস্ট দেখানো জরুরি ACOG সুপারিশ করে যে বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যৌন স্বাস্থ্য আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

উপসংহার

নারীদের অর্গাজম একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং সঠিক জ্ঞান ও কৌশলে এটি উন্নত করা সম্ভব। ক্লিটোরাল স্টিমুলেশন, কেগেল ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য এবং অংশীদারের সাথে খোলামেলা যোগাযোগ — এই ৪টি মূলনীতি প্রয়োগে যৌন জীবনে গুণগত পরিবর্তন আসে। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)

  • Herbenick, D. et al. (2017) — Women’s Experiences With Genital Touching, Sexual Pleasure, and Orgasm. Journal of Sex & Marital Therapy. https://doi.org/10.1080/0092623X.2017.1346530
  • Levin, R.J. (2014) — The human female orgasm: a critical evaluation of its proposed reproductive functions. Sexual and Relationship Therapy. https://doi.org/10.1080/14681994.2013.853409
  • Prause, N. et al. (2016) — Clitoral photoplethysmography measures during orgasm. Socioaffective Neuroscience & Psychology. https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC5024720/
  • International Urogynecology Journal (2019) — Pelvic floor muscle training for female sexual dysfunction. https://link.springer.com/article/10.1007/s00192-019-03968-x
  • American College of Obstetricians and Gynecologists (ACOG) — Female Sexual Dysfunction. Practice Bulletin No. 213. https://www.acog.org/clinical/clinical-guidance/practice-bulletin/articles/2019/09/female-sexual-dysfunction
  • Meston, C.M. & Buss, D.M. (2007) — Why humans have sex. Archives of Sexual Behavior. https://doi.org/10.1007/s10508-007-9175-2
  • Rowland, D. & Kolba, T.N. (2018) — The Burden of Sexual Problems: Perceived Effects on Women’s and Men’s Sexual Partners. Journal of Sex Research. https://doi.org/10.1080/00224499.2016.1269308