শিলাজিৎ: বৈজ্ঞানিক ও ইউনানি পরিচয়, আখলাত, মিজাজ, উপাদান, উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

হিমালয়ের খাঁটি শিলাজিৎ রেজিন ও এর ইউনানি ঔষধি ব্যবহার

শিলাজিৎ হিমালয়ের পাথরের ফাটল থেকে নির্গত একটি ঘন কালচে-বাদামি প্রাকৃতিক পদার্থ। ইউনানি চিকিৎসায় একে “সিলাজতু” এবং “মোমিয়া” নামে ডাকা হয়। ফুলভিক অ্যাসিড, হিউমিক অ্যাসিড এবং ৮৪টি খনিজ উপাদান শিলাজিৎ-এর মূল গঠন তৈরি করে।

শিলাজিৎ কী?

শিলাজিৎ হলো হিমালয়, তিব্বত আলতাই পর্বতমালার শিলাস্তর থেকে নির্গত একটি আঠালো, কালচে-বাদামি জৈব রেজিন, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে উদ্ভিদ অণুজীবের পচনের মাধ্যমে গঠিত হয়

শিলাজিৎ কোনো একক খনিজ নয়। এটি একটি জটিল জৈব-খনিজ মিশ্রণ। পর্বতের উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় উদ্ভিদজ পদার্থ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভেঙে শিলাজিৎ তৈরি করে। গ্রীষ্মকালে পাথরের ফাটল থেকে এই পদার্থ গলে বের হয়। স্থানীয় সংগ্রাহকরা একে সংগ্রহ করে পরিশোধন করেন।

ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে শিলাজিৎ-কে “হাজারো ভেষজের নির্যাস” বলা হয়। কারণ পাহাড়ি উদ্ভিদের রস শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পাথরের স্তরে জমা হয়ে এই পদার্থে পরিণত হয়। আধুনিক গবেষণায় শিলাজিৎ-কে ফুলভিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক জৈব-জটিল (organic complex) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।[৪]

শিলাজিৎ-এর ইউনানি পরিচয়, আখলাত ও মিজাজ কী?

ইউনানি চিকিৎসায় শিলাজিৎ-এর মিজাজ গরম খুশক (তৃতীয় দরজায়) ধরা হয়একে দাফে সোদা, মুকাব্বি বাহ এবং মুদাররে বলগম আখলাতের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়

ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্র শরীরের চারটি আখলাত বা তরল উপাদান নির্ধারণ করে — দম (রক্ত), বলগম (কফ), সফরা (পিত্ত) এবং সোদা (কালো পিত্ত)। শিলাজিৎ সোদা ও বলগম আখলাতের আধিক্য কমায়। এই কারণে হাকিমরা দুর্বলতা, শৈত্য প্রকৃতির রোগ এবং বার্ধক্যজনিত ক্ষয়ে শিলাজিৎ প্রয়োগ করেন।

শিলাজিৎ-এর তিনটি ইউনানি গুণ নিচে দেওয়া হলো, যেমন: মুকাব্বি বদন (শরীরের শক্তি বৃদ্ধিকারী), মুদাররে বওল (প্রস্রাবকারক) এবং মুসাখখিন আজা (অঙ্গ উষ্ণকারী)।

ইউনানি গ্রন্থ “কানুন ফিত তিব”-এ ইবনে সিনা শিলাজিৎ-কে “মোমিয়ায়ে হিন্দ” নামে বর্ণনা করেছেন। তিনি একে অস্থিভাঙা জোড়া লাগানো এবং শারীরিক দুর্বলতা দূর করার উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শিলাজিৎ-এর রাসায়নিক উপাদান কী কী?

শিলাজিৎ-ফুলভিক অ্যাসিড, হিউমিক অ্যাসিড, ৮৪টি খনিজ উপাদান, ডিবেঞ্জো-আলফা-পাইরন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড থাকেফুলভিক অ্যাসিড শিলাজিৎ-এর প্রধান সক্রিয় উপাদান হিসেবে কাজ করে

শিলাজিৎ-এর প্রধান ৫টি উপাদান নিচে দেওয়া হলো, যেমন:

  • ফুলভিক অ্যাসিড — কোষে খনিজ পরিবহনকারী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ, যা শিলাজিৎ-এর মোট ওজনের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত গঠন করে।[৪]
  • হিউমিক অ্যাসিড — জৈব পদার্থের পচন থেকে তৈরি একটি বড় আণবিক যৌগ, যা প্রদাহ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • খনিজ উপাদান — লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, দস্তা ও পটাশিয়ামসহ ৮৪টি ট্রেস মিনারেল, যা এনজাইম কার্যক্রম পরিচালনা করে।[৫]
  • ডিবেঞ্জো-আলফা-পাইরন — একটি ফেনোলিক যৌগ, যা কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
  • অ্যামিনো অ্যাসিড — প্রোটিন গঠনের মৌলিক একক, যা শরীরের কোষ পুনর্গঠনে অংশ নেয়।

শিলাজিৎ-এর উপকারিতা কী কী?

শিলাজিৎ-এর ৬টি প্রধান উপকারিতা আছে, যেমন: টেস্টোস্টেরন মাত্রা বৃদ্ধি, পুরুষের যৌন শক্তি ও স্ট্যামিনা বৃদ্ধি, স্মৃতিশক্তি সহায়তা, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা। 

টেস্টোস্টেরন মাত্রা বৃদ্ধিতে শিলাজিৎ-এর ভূমিকা কী?

২০১৬ সালে “Andrologia” জার্নালে প্রকাশিত একটি র‍্যান্ডমাইজড ডাবল-ব্লাইন্ড গবেষণায় ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী পুরুষদের ৯০ দিন ধরে দৈনিক ২৫০ মিলিগ্রাম পরিশোধিত শিলাজিৎ দেওয়া হয়েছিল। প্লাসিবো গ্রুপের তুলনায় এই গ্রুপে মোট টেস্টোস্টেরন, ফ্রি টেস্টোস্টেরন এবং ডিহাইড্রোএপিয়ানড্রোস্টেরন (DHEAS) মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।[৭] ২০২৪ সালের একটি নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় প্রমিতকৃত শিলাজিৎ নির্যাস গ্রহণকারী পুরুষদের মধ্যেও একই ফলাফল পাওয়া গেছে।[৬]

শারীরিক ক্লান্তি হ্রাসে শিলাজিৎ কীভাবে কাজ করে?

ফুলভিক অ্যাসিড কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় পুষ্টি উপাদান পরিবহন করে। মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। “Journal of Ethnopharmacology”-তে প্রকাশিত গবেষণায় শিলাজিৎ গ্রহণকারী অংশগ্রহণকারীদের ক্লান্তি হ্রাস এবং সহনশীলতা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।[৭]

স্মৃতিশক্তি সহায়তায় শিলাজিৎ-এর প্রভাব কী?

২০২৩ সালের একটি গবেষণাগার গবেষণায় দেখা গেছে, শিলাজিৎ-এর ফুলভিক অ্যাসিড টাউ প্রোটিনের স্ব-জমাট বাঁধা প্রক্রিয়া প্রতিরোধ করে।[৩] টাউ প্রোটিনের জমাট আলঝেইমার রোগে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই গবেষণা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও ফুলভিক অ্যাসিডের নিউরোপ্রোটেকটিভ ভূমিকা নির্দেশ করে।

রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে শিলাজিৎ-এর অবদান কী?

শিলাজিৎ-এ থাকা লৌহ উপাদান হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে অংশ নেয়। ইউনানি চিকিৎসায় দুর্বলতা ও রক্তস্বল্পতাজনিত ক্লান্তিতে শিলাজিৎ ব্যবহারের ইতিহাস ৩,০০০ বছরের বেশি পুরনো।

প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নয়নে শিলাজিৎ কী ভূমিকা রাখে?

ছোট নমুনার ক্লিনিক্যাল গবেষণায় ৩ থেকে ৬ মাস শিলাজিৎ গ্রহণকারী পুরুষদের শুক্রাণু সংখ্যা, গতিশীলতা ও গঠনে উন্নতির তথ্য পাওয়া গেছে।[৭] আয়ুর্বেদ ও ইউনানি উভয় চিকিৎসাশাস্ত্রে শিলাজিৎ-কে পুরুষ বন্ধ্যাত্বের প্রতিকার হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহার করা হয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষায় শিলাজিৎ কীভাবে কাজ করে?

ফুলভিক অ্যাসিড ও পলিফেনল যৌগ কোষে মুক্ত মৌল (free radical) নিষ্ক্রিয় করে। মুক্ত মৌল কোষের ডিএনএ ও ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিলাজিৎ-এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রম বার্ধক্যজনিত কোষ ক্ষয় ধীর করতে সহায়তা করে।

শিলাজিৎ কীভাবে খাবেন?

শিলাজিৎ দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় সেবন করা হয়মটর দানা পরিমাণ রেজিন উষ্ণ দুধ বা পানিতে গুলিয়ে সকালে খালি পেটে গ্রহণ করা হয়ক্যাপসুল আকারেও শিলাজিৎ বাজারে পাওয়া যায়

শিলাজিৎ খাওয়ার ৩টি ধাপ নিচে দেওয়া হলো, যেমন:

১. মটর দানা পরিমাণ (প্রায় ৩০০-৫০০ মিলিগ্রাম) শুদ্ধ শিলাজিৎ রেজিন নির্বাচন করা।

২. এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ বা পানিতে রেজিন সম্পূর্ণ গুলিয়ে নেওয়া।

৩. সকালে নাশতার আগে অথবা ব্যায়ামের ৩০ মিনিট পূর্বে মিশ্রণটি পান করা।

ইউনানি হাকিমরা শিলাজিৎ-কে মধু, দুধ অথবা অন্যান্য মুফাররেহ (হৃদয়-প্রফুল্লকারী) ভেষজের সঙ্গে মিশিয়ে সেবনের পরামর্শ দেন। এই সংমিশ্রণ শিলাজিৎ-এর শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং এর উষ্ণ প্রকৃতি ভারসাম্যে রাখে।

কাঁচা ও অপরিশোধিত শিলাজিৎ সরাসরি সেবন নিষিদ্ধ। অপরিশোধিত রেজিনে ভারী ধাতু ও ছত্রাক উপস্থিত থাকে। পরিশোধিত ও পরীক্ষাগার-প্রত্যয়িত শিলাজিৎ পণ্য নির্বাচন করা আবশ্যক।[৪]

শিলাজিৎ-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?

শিলাজিৎ সেবনে ৫টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন: গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমিভাব এবং হরমোন ভারসাম্যহীনতাঅতিরিক্ত মাত্রায় সেবনে রক্তচাপ পটাশিয়াম মাত্রায় পরিবর্তন দেখা দেয়

শিলাজিৎ-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:

  • পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা — বমিভাব, বমি ও ডায়রিয়া শিলাজিৎ সেবনের পর কিছু ব্যবহারকারীর মধ্যে দেখা দেয়।[৩]
  • হরমোন ভারসাম্যহীনতা — টেস্টোস্টেরন মাত্রা বৃদ্ধির কারণে নারীদের মধ্যে ব্রণ, অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও চুল পড়া দেখা দিতে পারে।[৩]
  • সিউডোহাইপারঅ্যালডোস্টেরনিজম — এই জটিলতায় উচ্চ রক্তচাপ, নিম্ন পটাশিয়াম মাত্রা ও মেটাবলিক অ্যালকালোসিস দেখা দেয়। একটি কেস স্টাডিতে এই জটিলতা নথিভুক্ত হয়েছে।[৩]
  • অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া — ত্বকে চুলকানি, র‍্যাশ ও শ্বাসকষ্ট অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিতে পারে।
  • মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা — ফুলভিক অ্যাসিড গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে গলা ব্যথার সঙ্গে এই উপসর্গ দেখা দেয়।[৩]

শিলাজিৎ সেবনে কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?

গর্ভবতী স্তন্যদানকারী নারী, হিমোক্রোমাটোসিস রোগী, সিকল সেল অ্যানিমিয়া রোগী এবং থ্যালাসেমিয়া রোগী শিলাজিৎ সম্পূর্ণ পরিহার করবেনহৃদরোগ উচ্চ রক্তচাপের রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিলাজিৎ গ্রহণ করবেন না

শিলাজিৎ সেবনের ৪টি সতর্কতা নিচে দেওয়া হলো, যেমন:

  • উৎস যাচাই করা — অপরিশোধিত ও পরীক্ষাবিহীন শিলাজিৎ-এ সীসা, আর্সেনিক ও পারদের মতো ভারী ধাতু উপস্থিত থাকতে পারে।[৪]
  • মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখা — নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত শিলাজিৎ সেবনে হরমোন ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।
  • ওষুধের মিথস্ক্রিয়া পরীক্ষা করা — লৌহ সাপ্লিমেন্ট, রক্তচাপের ওষুধ ও ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে শিলাজিৎ-এর মিথস্ক্রিয়া হতে পারে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া — দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে অথবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে শিলাজিৎ শুরুর পূর্বে হাকিম বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

গর্ভাবস্থায় শিলাজিৎ-এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল তথ্য উপস্থিত নেই। এই কারণে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য শিলাজিৎ সেবন সুপারিশ করা হয় না।

শিলাজিৎ সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

শিলাজিৎ প্রতিদিন খাওয়া যায় কি?

হ্যাঁ, পরিশোধিত শিলাজিৎ প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় সেবন করা যায়একটানা ৯০ দিন সেবনের পর ১৫ দিন বিরতি নেওয়ার নিয়ম ইউনানি চিকিৎসায় প্রচলিত

শিলাজিৎ কাদের জন্য নিষিদ্ধ?

গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা, হিমোক্রোমাটোসিস রোগী এবং সিকল সেল অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য শিলাজিৎ নিষিদ্ধ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্যও শিলাজিৎ সুপারিশযোগ্য নয়

আসল শিলাজিৎ চেনার উপায় কী?

আসল শিলাজিৎ কুসুম গরম পানিতে সম্পূর্ণ গলে যায় এবং কোনো দানাদার অবশিষ্টাংশ রাখে নাগলিত শিলাজিৎ টেনে সুতার মতো লম্বা হয় এবং তিতা স্বাদযুক্ত হয়

শিলাজিৎ ও মধু একসঙ্গে খাওয়া যায় কি?

হ্যাঁ, ইউনানি চিকিৎসায় শিলাজিৎ মধু একসঙ্গে সেবনের প্রচলন আছেমধু শিলাজিৎ-এর তিতা স্বাদ প্রশমিত করে এবং এর শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

শিলাজিৎ খেলে ফলাফল পেতে কত সময় লাগে?

নিয়মিত সেবনে থেকে সপ্তাহের মধ্যে শক্তি সহনশীলতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়টেস্টোস্টেরন মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের জন্য ক্লিনিক্যাল গবেষণায় ৯০ দিন সময় নির্ধারিত হয়েছে।[৬]

নারীরা কি শিলাজিৎ খেতে পারেন?

হ্যাঁ, নারীরা নির্ধারিত মাত্রায় শিলাজিৎ সেবন করতে পারেনতবে হরমোন-সংবেদনশীল অবস্থায় থাকা নারীদের সেবনের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক

উপসংহার

শিলাজিৎ হিমালয়ের প্রাকৃতিক রেজিন হিসেবে ইউনানি ও আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র উভয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ফুলভিক অ্যাসিড ও ৮৪টি খনিজ উপাদান একে শক্তিবৃদ্ধি, টেস্টোস্টেরন সহায়তা ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষায় কার্যকর করে তোলে। পরিশোধিত ও পরীক্ষাগার-প্রত্যয়িত শিলাজিৎ নির্বাচন করা নিরাপত্তার প্রথম শর্ত। হেকিম সুলতান-এর কাছ থেকে খাঁটি ও পরিশোধিত শিলাজিৎ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ব্যক্তিগত ইউনানি পরামর্শ নিতে https://hakimsultan.com/ ভিজিট করুন। আজই সঠিক তথ্য জেনে সুস্থ জীবনযাপনের পথে এগিয়ে যান।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)

১. Cleveland Clinic Health Essentials — Shilajit Benefits, Side Effects and Uses. Reviewed 2025. https://health.clevelandclinic.org/shilajit-benefits

২. Love Life Supplements — Can Shilajit Boost Testosterone? Reviewing the Clinical Evidence. Mehra (2024) study reference. https://www.lovelifesupplements.co.uk/blogs/love-life-health-blog/can-shilajit-boost-testosterone-reviewing-the-clinical-evidence

৩. PMC/NCBI — Shilajit: A Natural Phytocomplex with Potential Procognitive Activity. https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3296184/

৪. Feelgoodpal — Shilajit: Benefits, Testosterone Evidence, Safety. https://feelgoodpal.com/blog/shilajit

৫. Ubie Doctor’s Note — Why Your Doctor Links Shilajit to Male Vitality: The Science and Next Steps. https://ubiehealth.com/doctors-note/shilajit-benefit-dr-links-male-vitality-science-4251q9

৬. Andrologia জার্নাল — পরিশোধিত শিলাজিৎ ও পুরুষ টেস্টোস্টেরন সংক্রান্ত ২০১৬ সালের ডাবল-ব্লাইন্ড গবেষণা (সেকেন্ডারি সোর্স উদ্ধৃত)।

৭. ইবনে সিনা — কানুন ফিত তিব (ইউনানি চিকিৎসা গ্রন্থ), মোমিয়া/শিলাজিৎ অধ্যায়।

 

হেকিম সুলতান
লেখক সম্পর্কে

হেকিম সুলতান

BUMS, খুলনা ইউনানি মেডিকেল কলেজ