আকরকরা বা আকারকারা (Anacyclus pyrethrum) Asteraceae পরিবারের একটি বহুবর্ষজীবী ঔষধি গাছ। উত্তর আফ্রিকা, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, আরব উপদ্বীপ ও ভারতের শুষ্ক এলাকায় এটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মে। ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর শিকড় হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক গবেষণায় এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্বও প্রমাণিত হয়েছে। এই নিবন্ধে এর পরিচয়, উপাদান ও ব্যবহার বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আকরকরা কী?
আকরকরা (Anacyclus pyrethrum) Asteraceae পরিবারের একটি বহুবর্ষজীবী ঔষধি গাছ। ইউনানি চিকিৎসায় একে আকারকারহা বলা হয়। এর শিকড় মুখের রোগ, স্নায়ুগত সমস্যা, যৌন দুর্বলতা ও প্রদাহজনিত ব্যথায় হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বৈজ্ঞানিক নাম Anacyclus pyrethrum (L.) DC। ইংরেজিতে একে Spanish Pellitory বা African Pyrethrum বলা হয়। সাদা রশ্মিযুক্ত ফুল ও হলুদ কেন্দ্রবিশিষ্ট এই গাছের উচ্চতা ৩০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার। শিকড় দীর্ঘ, সুগঠিত, তন্তুময় এবং বাইরে বাদামি, ভেতরে সাদা রঙের। এর স্বাদ তীব্র ঝাঁঝালো ও সামান্য তিক্ত।
আকরকরার বৈজ্ঞানিক ও ইউনানি পরিচয়
বৈজ্ঞানিক নাম Anacyclus pyrethrum (L.) DC। ইউনানি নাম আকারকারহা (Aqarqarha)। মিজাজ গরম ও শুষ্ক তৃতীয় বা চতুর্থ মাত্রার। শিকড় প্রধান ঔষধি অংশ। উত্তর আফ্রিকা, আলজেরিয়া, মরক্কো ও ভারতে এটি পাওয়া যায়। আইবন সিনা ও আর-রাজি এর গুণ লিপিবদ্ধ করেছেন।
আকরকরা উত্তর আফ্রিকা, আলজেরিয়া, মরক্কো, স্পেন, সিরিয়া ও আরব উপদ্বীপের স্থানীয় উদ্ভিদ। ভারতে এটি জম্মু-কাশ্মীর, বাংলা, রাজস্থান ও হিমাচল প্রদেশে পাওয়া যায়। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভারতে আলজেরিয়া ও আফ্রিকা থেকে আমদানি করা হয়। ইউনানি গ্রন্থে এর শিকড় একক বা যৌক্তিক প্রস্তুতিতে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। আইবন সিনা ও আর-রাজির মতো বিখ্যাত চিকিৎসকরা এর স্যালাইভাগোগ ও যৌন উদ্দীপক গুণের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন।
আকরকরার মিজাজ ও আখলাত
ইউনানি চিকিৎসায় আকরকরার মিজাজ গরম ও শুষ্ক (হার ইয়াবিস)। কোনো গ্রন্থে তৃতীয় মাত্রা, কোনোতে চতুর্থ মাত্রা উল্লেখ আছে। এটি বলগামি (ঠান্ডা-আর্দ্র) অবস্থা দূর করে এবং সফরা ও দমের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ইউনানি মতে মানবদেহ চারটি আখলাত বা রসের সমন্বয়ে গঠিত: দম (রক্ত), বলগাম (কফ), সফরা (পিত্ত) ও সৌদা (কাল পিত্ত)। প্রতিটি আখলাতের নিজস্ব মিজাজ বা তাপমাত্রা রয়েছে। আকরকরার তীব্র গরম ও শুষ্ক মিজাজ এটিকে বলগামি রোগের প্রতিকার হিসেবে বিশেষ উপযোগী করে তোলে। শরীরের ঠান্ডা ও আর্দ্র অবস্থা দূর করে তাপ ও শুষ্কতা সরবরাহ করে। সফরা ও বলগামের সু-এ-মিজাজ বা ভারসাম্যহীনতায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আকরকরার রসায়নিক উপাদান
আকরকরার শিকড়ে অ্যালকালয়েড, ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনলিক যৌগ, ট্যানিন ও ভোলাটাইল অয়েল রয়েছে। প্রধান সক্রিয় যৌগ পেলিটোরিন, অ্যানাসাইক্লিন, পাইরেথ্রিন, সেসামিন ও ইনুলিন। ফেনলিক যৌগ ৩৩.৪৬ মিলিগ্রাম EAG/g EP পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
ফাইটোকেমিক্যাল বিশ্লেষণে শিকড়ে নিম্নলিখিত উপাদান শনাক্ত হয়েছে:
১. অ্যালকালয়েড: পেলিটোরিন, অ্যানাসাইক্লিন, হারকিউলিন ও N-আইসোবিউটাইলামাইড ২. ফ্ল্যাভোনয়েড: কোয়ারসেটিন ও ফেনলিক যৌগ ৩. ট্যানিন ও পলিফেনল ৪. ভোলাটাইল অয়েল ও এসেনশিয়াল অয়েল ৫. ফ্রুক্টান: ইনুলিন ৬. ফ্যাটি অ্যাসিড: আইসোভ্যালেরিক, ডেকানোইক, লরিক, মিরিস্টিক, পালমিটিক ও অক্টাডেকানোইক অ্যাসিড ৭. স্টেরল, ট্রাইটারপিন, সাপোনিন ও কুমারিন ৮. ট্রেস মিনারেল: লোহা, জিংক ও ক্রোমিয়াম
একটি গবেষণায় মিথানলিক নির্যাসে ফেনলিক যৌগের পরিমাণ ৩৩.৪৬ ± ০.৫৭ মিলিগ্রাম EAG/g EP এবং ফ্ল্যাভোনয়েড ১১.০৮ ± ০.২৪ মিলিগ্রাম E Qu/g EP পাওয়া গেছে।
আকরকরার শরীরে কার্যপদ্ধতি
আকরকরার অ্যালকাইলামাইড ও পেলিটোরিন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এটি স্যালাইভারি গ্রন্থি সক্রিয় করে, রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং COX-2 এনজাইমের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রদাহ হ্রাস করে। অ্যানাসাইফ্রেথিন আয়ন চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করে ব্যথা উপশম দেয়।
পেলিটোরিন ও অন্যান্য অ্যালকাইলামাইড স্নায়ু শেষে সংযুক্ত হয়ে তীব্র ঝাঁঝালো অনুভূতি তৈরি করে। এই উদ্দীপনা স্থানীয় রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং স্যালাইভারি গ্রন্থিকে সক্রিয় করে লালা নিঃসরণ বাড়ায়। ক্যাফিক অ্যাসিড COX-2 প্রোটিনের সঙ্গে বন্ধন তৈরি করে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ইন ভিট্রো পরীক্ষায় এর প্রদাহরোধী ক্ষমতা ৭৬.১% পাওয়া গেছে, যা অ্যাসপিরিনের ৮১.১১%-এর নিকটবর্তী।
সম্প্রতি চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেস আকরকরা থেকে অ্যানাসাইফ্রেথিন নামক নতুন অ্যালকালয়েড আবিষ্কার করেছে যা TRPM8, Kv1.2 ও Kv1.3 আয়ন চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করে ব্যথা উপশম দেয়। এই যৌগ অপিওয়েড রিসেপ্টর ছাড়াই কাজ করে।
আকরকরার প্রধান উপকারিতা
আকরকরা দাঁতব্যথা, মুখের শুষ্কতা, স্নায়ুদুর্বলতা, যৌন সমস্যা, প্রদাহজনিত বাত ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসে উপকারী। আধুনিক গবেষণায় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যানালজেসিক কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
দন্ত ও মুখের স্বাস্থ্যে
আকরকরা শিকড় দাঁতব্যথা, মাড়ির প্রদাহ, দন্তক্ষয় ও মুখের ঘায়ে উপকারী। এর স্যালাইভাগোগ (লালা উৎপাদনকারী) গুণ মুখের শুষ্কতা দূর করে। স্থানীয়ভাবে প্রয়োগে এটি স্নায়ুতে সাময়িক অবশতা তৈরি করে ব্যথা উপশম দেয়। ইউনানি চিকিৎসায় দন্তমঞ্জন (সুনূন) ও পেস্ট (কাইরুতি) হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ডোজ গ্রহণ করবেন না।
স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষমতায়
আকরকরা স্নায়ু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। মুখমণ্ডলের পক্ষাঘাত, কম্পন, অর্ধাঙ্গাঘাত ও মৃগীরোগে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় ইথানলিক নির্যাস স্মৃতিশক্তি ও শিক্ষণ ক্ষমতা উন্নত করতে দেখা গেছে। ৫০০ মিলিগ্রাম/কেজি ডোজে মৃগীর আক্রমণের সময়কাল বৃদ্ধি পেয়েছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ডোজ গ্রহণ করবেন না।
যৌন স্বাস্থ্য ও পুরুষ বন্ধ্যাত্বে
আকরকরা মুক্তবীর্য বৃদ্ধি, শুক্রাণুর গতি ও সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। পশু পরীক্ষায় ৫০ থেকে ১৫০ মিলিগ্রাম/কেজি ডোজে শুক্রাশয়ের ওজন ও বীর্যের মান উন্নতি পেয়েছে।
যৌন উদ্দীপক হিসেবে ইউনানি চিকিৎসায় মাজুন ও রোগন প্রস্তুতিতে এটি ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ডোজ গ্রহণ করবেন না।
প্রদাহ ও বাতজনিত ব্যথায়
আকরকরার প্রদাহরোধী কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। ইন ভিট্রো পরীক্ষায় এর অ্যালবুমিন ডিনেচারেশন বাধাদান ক্ষমতা ৭৬.১% পাওয়া গেছে। পশু পরীক্ষায় ২৫০ ও ৫০০ মিলিগ্রাম/কেজি ডোজে কানের প্রদাহ ও পায়ের ফোলা হ্রাস পেয়েছে। আরথ্রাইটিস, রিউম্যাটিজম ও সায়াটিকায় উপকারী। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ডোজ গ্রহণ করবেন না।
হজম ও শ্বাসপ্রশ্বাসে
আকরকরা হজম শক্তি বাড়ায় ও পেটের গ্যাস দূর করে। গলাব্যথা, কাশি, সর্দি ও হাঁপানিতে এর নির্যাস উপকারী। মুখের ভেতরের প্রদাহ ও জিহ্বার অংশিক পক্ষাঘাতে গার্গল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
অন্যান্য সম্ভাব্য উপকারিতা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে DPPH পদ্ধতিতে এর IC50 মান ০.১৪২ মিলিগ্রাম/মিলি পাওয়া গেছে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল পরীক্ষায় Staphylococcus aureus ও Escherichia coli-র বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে MIC ২.৫ থেকে ২৭.৫ মিলিগ্রাম/মিলি ছিল। ইমিউনোস্টিমুলেন্ট হিসেবে ৫০ মাইক্রোগ্রাম/মিলি ডোজে RES উদ্দীপনা দেখা গেছে।
আকরকরা ব্যবহারের নিয়ম কী?
ইউনানি পদ্ধতিতে আকরকরা শিকড়ের গুঁড়ো ০.৫ থেকে ৩.৫ গ্রাম পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। মধু, ঘি বা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। বাহ্যিক প্রয়োগে তেল বা দন্তমঞ্জন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকের নির্দেশিত মাত্রায় সেবন করুন।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় শিকড়ের গুঁড়ো সাধারণত ১২৫ মিলিগ্রাম থেকে ১ গ্রাম দিনে দুবার খাওয়া হয়। নির্যাস ১২৫ থেকে ২৫০ মিলিগ্রাম দিনে দুবার। ক্বাথ বা ডিকোশন তৈরিতে ৩ গ্রাম গুঁড়ো ১০০ মিলি পানিতে সিদ্ধ করে একবার খাওয়া যায়। বাহ্যিক প্রয়োগে মাড়ি ও দাঁতে তেল মালিশ করা হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে জিহ্বায় অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসকের নির্দেশিত মাত্রায় ব্যবহার করুন।
আকরকরার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অতিরিক্ত মাত্রায় আকরকরা মুখে জ্বালাপোড়া, গ্যাস্ট্রিক অস্বস্তি, অত্যধিক লালা নিঃসরণ, ঘুমের ব্যাঘাত ও মুখের ঘা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে এর যৌন উদ্দীপনার কার্যকারিতা কমতে পারে।
সরাসরি শিকড় চোবালে মুখ ও গলায় তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। কিছু ব্যক্তিতে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, মাথাব্যথা ও চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ডোজে কম্পন, অতিরিক্ত স্নায়ু উদ্দীপনা ও জ্ঞানহানিও ঘটতে পারে।
কাদের জন্য আকরকরা নিষিদ্ধ?
গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়েদের জন্য আকরকরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পেটের ঘা, এসিডিটি, কোলাইটিস, মুখের ঘা ও অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও এটি পরিহার করা উচিত। রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনকারীরা সতর্ক থাকবেন।
গর্ভাবস্থায় আকরকরা গর্ভপাত ঘটাতে পারে কারণ এটি জরায়ুর সংকোচন উস্কে দেয়। স্তন্যদানকালে এটি দুধের প্রবাহ কমিয়ে দেয়। যাদের পিত্ত প্রকৃতি বেশি বা গরম মিজাজ, তাদের এটি ব্যবহারে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ, ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট ও রক্তচাপের ওষুধ সেবনকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
১. Tuersong T. et al. (2024). Traditional use, chemical composition, and pharmacological activity of Anacyclus pyrethrum. Clinical Traditional Medicine and Pharmacology. https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S2097382924000507
২. Elazzouzi H. et al. (2022). Phytochemistry, Biological and Pharmacological Activities of the Anacyclus pyrethrum (L.) Lag: A Systematic Review. Plants, 11(19), 2578. https://www.mdpi.com/2223-7747/11/19/2578
৩. Phytopharma Journal. Review on Aqarqarha (Anacyclus pyrethrum). https://phytopharmajournal.com/Vol9_Issue6_07.pdf
৪. PMCID: PMC5217817. A scientific correlation between dystemprament in Unani medicine and diseases: a systematic review. https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC5217817/
৫. Italian Journal of Food Science (2024). Anacyclus pyrethrum extracts: examination of bioactive compounds and therapeutic implications. https://www.itjfs.com/index.php/ijfs/article/view/2627/1164
৬. IJERT (2026). Akarkara (Anacyclus pyrethrum): A Cross-Cultural Review. https://www.ijert.org/akarkara-anacyclus-pyrethrum-a-cross-cultural-review-of-medicinal-applications-and-global-research-landscape-ijertv15is052732
৭. Chinese Academy of Sciences (2025). Researchers Isolated Non-Opioid Multi-Target Analgesic from Roots of Anacyclus Pyrethrum. https://english.cas.cn/newsroom/research_news/chem/202505/t20250516_1043756.shtml
৮. PMCID: PMC10655324. Combinative effects of akarkara root-derived metabolites on anti-inflammatory and anti-alzheimer key enzymes. https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC10655324/
৯. JAPSONLINE. Pharmacognostic and phytopharmacology study of Anacyclus pyrethrum. https://japsonline.com/admin/php/uploads/1818_pdf.pdf ১০. Ask-Ayurveda (2025). Anacyclus pyrethrum: Ayurvedic Wiki Page. https://ask-ayurveda.com/wiki/article/152-anacyclus-pyrethrum
[/box]
পরামর্শ
আকরকরা একটি শক্তিশালী ঔষধি উদ্ভিদ যা ইউনানি ও আধুনিক চিকিৎসায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর স্নায়ু উদ্দীপক, প্রদাহরোধী ও যৌন শক্তিবর্ধক গুণ বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত। তবে এর তীব্র মিজাজের কারণে সঠিক মাত্রায় ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।
আপনার শরীরের মিজাজ ও বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা বিবেচনা করে hakimsultan.com-এর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। সঠিক ব্যবহারে আকরকরা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. আকরকরা কতদিন খাওয়া যায়?
দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে এর কার্যকারিতা কমতে পারে। সাধারণত ১ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার নিরাপদ বলে মনে করা হয়। চিকিৎসকের নির্দেশিত মাত্রায় ব্যবহার করুন।
২. আকরকরা কি সরাসরি চোবানো যায়?
সরাসরি চোবালে মুখে তীব্র জ্বালাপোড়া ও ঘা হতে পারে। এটি মধু, ঘি বা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া উচিত।
৩. আকরকরা কি ডায়াবেটিসে উপকারী?
পশু পরীক্ষায় রক্তের গ্লুকোজ হ্রাস পেয়েছে। তবে মানবদেহে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
৪. আকরকরা কি মুখের শুষ্কতায় সাহায্য করে?
হ্যাঁ। আকরকরা শক্তিশালী স্যালাইভাগোগ। এটি লালা গ্রন্থি সক্রিয় করে মুখের শুষ্কতা দূর করে।
৫. আকরকরা কি শিশুদের জন্য নিরাপদ?
শিশুদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে বাহ্যিক প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে।
৬. আকরকরা কি প্রেগন্যান্সিতে নিরাপদ?
না। গর্ভাবস্থায় আকরকরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
৭. আকরকরা কোথায় পাওয়া যায়?
মরক্কো ও আলজেরিয়ার শুষ্ক এলাকায় এটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মে। ভারতে রাজস্থান ও হিমাচল প্রদেশে চাষ হয়। দোকানে আকরকরা গুঁড়ো বা নির্যাস হিসেবে পাওয়া যায়।

