অশ্বগন্ধা: পুরুষের যৌন উপকারিতা ও টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিতে ভূমিকা

টেস্টোস্টেরনের সঙ্গে অশ্বগন্ধার সম্পর্ক

অশ্বগন্ধা (Withania somnifera) একটি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ভেষজ উদ্ভিদ। এর মূল থেকে তৈরি নির্যাস পুরুষের হরমোন ভারসাম্য ও যৌন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই গাইডে অশ্বগন্ধার উপাদান, টেস্টোস্টেরনে এর ভূমিকা, যৌন উপকারিতা, সেবনবিধি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অশ্বগন্ধা কী?

অশ্বগন্ধা একটি ভেষজ উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Withania somnifera। এর মূল ঐতিহ্যগতভাবে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসায় শক্তিবর্ধক ও চাপ-নিয়ন্ত্রক (adaptogen) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মূলত মূলের নির্যাস সাপ্লিমেন্ট আকারে সেবন করা হয়।

অশ্বগন্ধা Solanaceae পরিবারের একটি চিরসবুজ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার শুষ্ক অঞ্চলে এই গাছ জন্মায়। ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে এই উদ্ভিদকে ‘আসগন্ধ’ নামে অভিহিত করা হয় এবং একে গরম প্রকৃতির (হার) শক্তিবর্ধক দ্রব্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

অ্যাডাপ্টোজেন হলো এমন একশ্রেণির ভেষজ উপাদান, যা শরীরের চাপ (স্ট্রেস) সহনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে। অশ্বগন্ধার মূল উপাদান হলো উইথানোলাইড (withanolides), যা এই অ্যাডাপ্টোজেনিক কার্যকারিতার জন্য দায়ী বলে গবেষণায় চিহ্নিত হয়েছে।

KSM-66 Sensoril — এই দুইটি হলো বাজারে প্রচলিত দুইটি স্ট্যান্ডার্ডাইজড অশ্বগন্ধা মূল নির্যাস, যা ক্লিনিক্যাল গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।

অশ্বগন্ধার রাসায়নিক উপাদান কী কী?

অশ্বগন্ধার মূলে উইথানোলাইড, অ্যালকালয়েড ও স্যাপোনিন — এই তিনটি প্রধান রাসায়নিক গোষ্ঠী পাওয়া যায়। উইথানোলাইড গোষ্ঠীর মধ্যে উইথাফেরিন-এ এবং উইথানোলাইড-এ প্রধান সক্রিয় যৌগ হিসেবে চিহ্নিত।

অশ্বগন্ধার মূলে ৩৫টির বেশি উইথানোলাইড শনাক্ত করা হয়েছে, যেমন: উইথাফেরিন-এ, উইথানোলাইড-এ, উইথানোন এবং উইথানোসাইড। প্রতিটি উইথানোলাইড ভিন্ন জৈব-সক্রিয়তা প্রদর্শন করে।

উইথাফেরিন কোষীয় প্রদাহ কমাতে সহায়ক যৌগ হিসেবে গবেষণায় পরিচিত। উইথানোলাইড স্নায়ুকোষ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে বলে প্রাণী-মডেল গবেষণায় পাওয়া গেছে।

অ্যালকালয়েড গোষ্ঠীর মধ্যে সোমনিফেরিন ও ট্রোপিন উল্লেখযোগ্য। এই যৌগগুলো স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রশমক (sedative) প্রভাব ফেলে বলে চিহ্নিত হয়েছে।

অশ্বগন্ধা পুরুষের টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিতে কীভাবে ভূমিকা রাখে?

গবেষণায় দেখা গেছে, অশ্বগন্ধা মূল নির্যাস সেবনে পুরুষদের রক্তের টেস্টোস্টেরন মাত্রা প্লাসিবোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই প্রভাব মূলত কর্টিসল হ্রাস ও হাইপোথ্যালামিক-পিটুইটারি-গোনাডাল অক্ষের কার্যকারিতা উন্নয়নের মাধ্যমে ঘটে বলে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন।

একটি সিস্টেমেটিক রিভিউতে ৪টি ট্রায়ালের মধ্যে ৩টিতে অশ্বগন্ধা মূল ও মূল-পাতা নির্যাস পুরুষদের টেস্টোস্টেরন মাত্রা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ফলাফল দেখিয়েছে, যা ScienceDirect-এ প্রকাশিত পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি ৮ সপ্তাহের ট্রায়ালে কম যৌন আকাঙ্ক্ষাসম্পন্ন পুরুষদের দৈনিক ৬০০ মিলিগ্রাম (৩০০ মিলিগ্রাম দুইবার) অশ্বগন্ধা মূল নির্যাস দেওয়া হয়েছিল। প্লাসিবো গ্রুপের তুলনায় এই গ্রুপে সেরাম টেস্টোস্টেরন মাত্রায় পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।

বয়স্ক ও অতিরিক্ত ওজনের পুরুষদের নিয়ে পরিচালিত একটি র‍্যান্ডমাইজড ক্রসওভার গবেষণায় (Lopresti et al., ২০১৯) হরমোন মাত্রা ও সজীবতার ওপর অশ্বগন্ধার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

কর্টিসল হ্রাস, HPA অক্ষ নিয়ন্ত্রণ অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস — গবেষকরা এই তিনটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অশ্বগন্ধার টেস্টোস্টেরন-সহায়ক প্রভাব ব্যাখ্যা করেন। তবে গবেষণাগুলো একমত যে এই বৃদ্ধি সাধারণত মাঝারি মাত্রার হয়, নাটকীয় নয়।

ক্লিনিক্যালি নির্ণীত হাইপোগোনাডিজম (গুরুতর নিম্ন টেস্টোস্টেরন) থাকা পুরুষের ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা হরমোন থেরাপির বিকল্প নয়। এমন পরিস্থিতিতে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

অশ্বগন্ধার যৌন উপকারিতা কী কী?

গবেষণায় অশ্বগন্ধার ৩টি প্রধান যৌন উপকারিতা লক্ষ করা গেছে, যেমন: যৌন তৃপ্তি উন্নয়ন, শুক্রাণুর গুণগত মান বৃদ্ধি এবং যৌন সজীবতা বৃদ্ধি। এই উপকারিতাগুলো একাধিক নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নথিভুক্ত হয়েছে।

যৌন তৃপ্তি কার্যক্ষমতা উন্নয়ন — Chauhan et al. (২০২২)-এর একটি র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়ালে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে অশ্বগন্ধা মূল নির্যাস সেবনে যৌন সজীবতা ও সামগ্রিক তৃপ্তির উন্নয়ন লক্ষ করা গেছে, যা Health Science Reports জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

শুক্রাণু সংখ্যা গতিশীলতা বৃদ্ধিঅলিগোস্পার্মিয়া (নিম্ন শুক্রাণু সংখ্যা) আক্রান্ত ৪৬ জন পুরুষের ওপর পরিচালিত একটি পাইলট স্টাডিতে ৯০ দিন দৈনিক ৬৭৫ মিলিগ্রাম অশ্বগন্ধা মূল নির্যাস সেবনে শুক্রাণু সংখ্যায় ১৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি এবং শুক্রাণু গতিশীলতায় ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।

বীর্যের পরিমাণ বৃদ্ধি — একই গবেষণায় বীর্যের পরিমাণে ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পর্যবেক্ষিত হয়েছে, যেখানে প্লাসিবো গ্রুপে এই পরিবর্তন সামান্য ছিল।

ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধার প্রভাব নিয়ে গবেষণা সীমিত। ২০১১ সালের একটি ট্রায়ালে মানসিক কারণে সৃষ্ট ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে অশ্বগন্ধা প্লাসিবোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখায়নি। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

অশ্বগন্ধা কীভাবে সেবন করবেন?

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে দৈনিক ৩০০ মিলিগ্রাম থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম স্ট্যান্ডার্ডাইজড মূল নির্যাস দুই ভাগে বিভক্ত করে সেবন করানো হয়েছে। খাবারের পর সেবন করলে পাকস্থলীর অস্বস্তি এড়ানো যায়।

ধাপ : নির্যাসের ধরন যাচাই — লেবেলে ‘রুট এক্সট্র্যাক্ট’ (root extract) লেখা আছে কি না দেখুন। মূল-পাতা মিশ্রিত নির্যাসের তুলনায় শুধু মূলের নির্যাস নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

ধাপ : মাত্রা নির্ধারণ — ৩০০ মিলিগ্রাম সকালে ও ৩০০ মিলিগ্রাম রাতে খাবারের পর সেবনের ধরন গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।

ধাপ : নিয়মিত সেবনকাল — অধিকাংশ ট্রায়ালে ৬০ থেকে ৯০ দিন একটানা সেবনের পর ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা তথ্য সীমিত।

ধাপ : চিকিৎসকের পরামর্শ — সেবন শুরুর আগে হেকিম বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, বিশেষত বিদ্যমান শারীরিক অবস্থা বা ওষুধ সেবনরত ব্যক্তিদের জন্য।

অশ্বগন্ধার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?

অশ্বগন্ধা সেবনে সাধারণত ৩ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেমন: পরিপাকতন্ত্রের অস্বস্তি, তন্দ্রাভাব এবং উচ্চমাত্রায় যকৃতের ওপর প্রভাব। এই প্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত মৃদু মাত্রায় দেখা যায় বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে।

পরিপাকতন্ত্রের অস্বস্তি — বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা ও পেটের অস্বস্তি সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট হওয়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। খালি পেটে সেবন করলে এই প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পায়।

তন্দ্রাভাব ঝিমুনি — উচ্চমাত্রায় বা রাতের বেলা সেবনে এই প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা যায়।

যকৃতের ওপর প্রভাব — NCBI LiverTox ডেটাবেসে অশ্বগন্ধা-সংশ্লিষ্ট বিরল যকৃত ক্ষতির কেস রিপোর্ট নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি সেবনের (কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস) পর জন্ডিসের মতো লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের National Institutes of Health-ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমাত্রার সেবনে বিরল যকৃত ক্ষতির প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে।

এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো নিশ্চিত রোগনির্ণয়ের বিষয় নয় এবং সবার ক্ষেত্রে ঘটে না। শারীরিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অশ্বগন্ধা সেবনে কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?

অশ্বগন্ধা সেবনে ৪টি ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, যেমন: থাইরয়েড সমস্যা, যকৃতের পূর্ববর্তী রোগ, অটোইমিউন রোগ এবং নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া সেবন এড়িয়ে চলা উচিত।

থাইরয়েড সমস্যা — অশ্বগন্ধা T3 ও T4 হরমোন বৃদ্ধি এবং TSH হ্রাস করতে পারে বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে। হাইপারথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড ওষুধ সেবনরত ব্যক্তিদের জন্য এই প্রভাব ঝুঁকিপূর্ণ।

যকৃতের পূর্ববর্তী রোগ — যকৃতের রোগ, অতিরিক্ত মদ্যপানের ইতিহাস বা যকৃতের ওপর প্রভাবকারী ওষুধ সেবনরত ব্যক্তিদের অশ্বগন্ধা সেবনের আগে যকৃত পরীক্ষা (ALT/AST) করানো প্রয়োজন।

অটোইমিউন রোগ — মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগে অশ্বগন্ধার ইমিউন-উদ্দীপক প্রভাব লক্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ওষুধের মিথস্ক্রিয়া — থাইরয়েড ওষুধ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ওষুধ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রক ওষুধ ও প্রশমক (sedative) ওষুধের সাথে অশ্বগন্ধার মিথস্ক্রিয়ার সম্ভাবনা থাকে। এসব ওষুধ সেবনরত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অশ্বগন্ধা শুরু করা উচিত নয়।

গর্ভবতী নারী এবং প্রোস্টেট ক্যান্সার আক্রান্ত পুরুষদের জন্য বিশেষজ্ঞরা অশ্বগন্ধা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

অশ্বগন্ধা সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

অশ্বগন্ধা কতদিনে টেস্টোস্টেরনে প্রভাব দেখায়?

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে সাধারণত ৮ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে টেস্টোস্টেরন মাত্রায় পরিমাপযোগ্য পরিবর্তন রেকর্ড হয়েছে। ফলাফল ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং নিয়মিত সেবনের ওপর নির্ভরশীল।

অশ্বগন্ধা কি প্রতিদিন সেবন করা নিরাপদ?

৩ মাস পর্যন্ত দৈনিক ৩০০-৬০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় সেবন গবেষণায় সহনীয় পাওয়া গেছে। এর বেশি দীর্ঘমেয়াদি সেবনের নিরাপত্তা তথ্য এখনো সীমিত।

অশ্বগন্ধা কি সরাসরি ইরেক্টাইল ডিসফাংশন নিরাময় করে?

মানসিক কারণে সৃষ্ট ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে অশ্বগন্ধার সরাসরি প্রভাব নিয়ে গবেষণা সীমিত এবং একটি ট্রায়ালে উল্লেখযোগ্য উন্নতি পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

থাইরয়েড রোগীরা কি অশ্বগন্ধা সেবন করতে পারেন?

হাইপারথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড ওষুধ সেবনরত ব্যক্তিদের অশ্বগন্ধা সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক, কারণ এটি থাইরয়েড হরমোন মাত্রা পরিবর্তন করতে পারে।

অশ্বগন্ধা কি শুক্রাণুর মান বাড়ায়?

অলিগোস্পার্মিয়া আক্রান্ত পুরুষদের ওপর পরিচালিত একটি পাইলট স্টাডিতে ৯০ দিন সেবনে শুক্রাণু সংখ্যা ও গতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।

KSM-66 সাধারণ অশ্বগন্ধা নির্যাসের পার্থক্য কী?

KSM-66 একটি স্ট্যান্ডার্ডাইজড, শুধু মূল থেকে তৈরি পূর্ণ-বর্ণালী নির্যাস, যা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত। সাধারণ নির্যাসে মূল ও পাতা উভয়ের মিশ্রণ থাকতে পারে, যাতে উইথানোলাইডের পরিমাণ ভিন্ন হয়।

উপসংহার

অশ্বগন্ধা পুরুষের টেস্টোস্টেরন ও যৌন স্বাস্থ্যে গবেষণাসমর্থিত ভূমিকা রাখে, তবে এই প্রভাব সাধারণত মাঝারি মাত্রার এবং ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। ক্লিনিক্যালি নির্ণীত হরমোন সমস্যায় এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়। সঠিক মাত্রা, নির্যাসের মান ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সেবন করলে অশ্বগন্ধা নিরাপদ ও কার্যকর সহায়ক ভেষজ হতে পারে। ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য হেকিম সুলতানের সাথে WhatsApp-এ যোগাযোগ করুন।

তথ্যসূত্র রেফারেন্স (References)

১. Chauhan, S. et al. (2022) — Effect of standardized root extract of ashwagandha (Withania somnifera) on well-being and sexual performance in adult males: A randomized controlled trial. Health Science Reports, Wiley. https://onlinelibrary.wiley.com/doi/full/10.1002/hsr2.741

২. Ambiye, V.R. et al. (2013) — Clinical Evaluation of the Spermatogenic Activity of the Root Extract of Ashwagandha in Oligospermic Males: A Pilot Study. NCBI/PMC. https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3863556/

৩. Smith, S. et al. — Examining the Effects of Herbs on Testosterone Concentrations in Men: A Systematic Review. ScienceDirect. https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S2161831322001028

৪. National Institutes of Health, Office of Dietary Supplements — Ashwagandha: Health Professional Fact Sheet. https://ods.od.nih.gov/factsheets/Ashwagandha-HealthProfessional/

৫. NCBI Bookshelf — Ashwagandha, LiverTox: Clinical and Research Information on Drug-Induced Liver Injury. https://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK548536/

হেকিম সুলতান
লেখক সম্পর্কে

হেকিম সুলতান

BUMS, খুলনা ইউনানি মেডিকেল কলেজ