প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি পুরুষদের একটি সাধারণ বয়সজনিত সমস্যা। এই আর্টিকেলে প্রস্টেট বৃদ্ধির কারণ, লক্ষণ, ইউনানি ব্যাখ্যা, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি কী?
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি হলো মূত্রথলির নিচে অবস্থিত আখরোট আকৃতির প্রস্টেট গ্রন্থি স্বাভাবিক আকারের চেয়ে বড় হয়ে যাওয়ার অবস্থা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া (BPH) বলা হয়। এটি মূত্রনালীতে চাপ সৃষ্টি করে প্রস্রাবজনিত সমস্যা তৈরি করে।
প্রস্টেট গ্রন্থি পুরুষের প্রজনন তন্ত্রের একটি অঙ্গ। এটি মূত্রথলির ঠিক নিচে অবস্থান করে এবং মূত্রনালীকে ঘিরে রাখে। প্রস্টেট গ্রন্থির প্রধান কাজ হলো বীর্যের একটি অংশ তৈরি করা, যা শুক্রাণু বহনে সহায়তা করে।
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি ক্যান্সার নয়।
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির লক্ষণ প্রস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণের সাথে মিলে যায়। এই কারণে সঠিক নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরীক্ষা আবশ্যক।
প্রস্টেট বৃদ্ধির কারণ কী কী?
প্রস্টেট বৃদ্ধির প্রধান ৫টি কারণ হলো বয়সজনিত হরমোন পরিবর্তন, পারিবারিক ইতিহাস, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন। বয়স ৫০ বছর পার হলে পুরুষদের মধ্যে এই ঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
- বয়সজনিত হরমোন পরিবর্তন — টেস্টোস্টেরন ও ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরনের ভারসাম্যহীনতা প্রস্টেট কোষের বৃদ্ধি ঘটায়।
- পারিবারিক ইতিহাস — নিকট আত্মীয়ের মধ্যে প্রস্টেট বৃদ্ধির ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
- স্থূলতা — অতিরিক্ত ওজন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রস্টেট বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
- ডায়াবেটিস — রক্তে উচ্চ শর্করার মাত্রা প্রস্টেট কোষের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
- নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন — শারীরিক পরিশ্রমের অভাব রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে প্রস্টেটের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করে।
প্রস্টেট বৃদ্ধির লক্ষণ কী কী?
প্রস্টেট বৃদ্ধির প্রধান ৮টি লক্ষণ হলো ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব শুরু করতে বিলম্ব, দুর্বল প্রস্রাবের ধারা, প্রস্রাব থেমে থেমে হওয়া, প্রস্রাব শেষে ফোঁটা পড়া, মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি এবং প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া।
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভব করা।
- রাতে ২ বারের বেশি প্রস্রাবের জন্য ঘুম থেকে ওঠা (নকটুরিয়া)।
- প্রস্রাব শুরু করতে সময় লাগা।
- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল ও পাতলা হয়ে যাওয়া।
- প্রস্রাব থেমে থেমে বের হওয়া।
- প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা ঝরা।
- মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি থাকা।
- প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া অনুভব করা।
এই ৮টি লক্ষণকে একত্রে নিম্ন মূত্রনালীর লক্ষণ (Lower Urinary Tract Symptoms বা LUTS) বলা হয়।
ইউনানি চিকিৎসায় প্রস্টেট বৃদ্ধিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়?
ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্র প্রস্টেট বৃদ্ধিকে শরীরের আখলাত বা তরল উপাদানের ভারসাম্যহীনতা এবং বার্ধক্যজনিত হারারত-এ-গরিজিয়া (দৈহিক তাপশক্তি) হ্রাসের ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এতে বলগমি মিজাজের আধিক্য প্রস্টেট গ্রন্থির টিস্যুতে জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি করে।
মিজাজ ইউনানি চিকিৎসার একটি মূল ধারণা। এটি শরীরের তাপ, শীতলতা, আর্দ্রতা এবং শুষ্কতার সমন্বয়কে বোঝায়। প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব মিজাজ থাকে, যা তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
আখলাত হলো শরীরের চারটি মৌলিক তরল উপাদান — দম (রক্ত), বলগম (কফ), সাফরা (পিত্ত) এবং সাওদা (কৃষ্ণ পিত্ত)। এই চারটি উপাদানের ভারসাম্য সুস্থতা নির্ধারণ করে।
কাইফিয়াত আরবা অর্থ চারটি গুণ — তাপ, শীতলতা, আর্দ্রতা ও শুষ্কতা। ইউনানি চিকিৎসায় প্রতিটি রোগের চিকিৎসা এই চারটি গুণের ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে করা হয়।
কুওয়াত-এ-বাহ অর্থ প্রজনন শক্তি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কুওয়াত-এ-বাহ হ্রাস পেলে প্রস্টেট গ্রন্থিসহ প্রজনন অঙ্গের কার্যকারিতা প্রভাবিত হয় বলে ইউনানি শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে।
প্রস্টেট বৃদ্ধির ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতি কী কী?
ইউনানি চিকিৎসায় প্রস্টেট বৃদ্ধির জন্য ৪টি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় — ইলাজ বিল গিজা (খাদ্য দ্বারা চিকিৎসা), ইলাজ বিদ দাওয়া (ভেষজ ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা), ইলাজ বিত তাদবির (নিয়ম-পদ্ধতি দ্বারা চিকিৎসা) এবং ইলাজ বিল ইয়াদ (হস্তচালিত চিকিৎসা)।
ইলাজ বিল গিজা (খাদ্য দ্বারা চিকিৎসা)
এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদান নির্বাচন করে মিজাজের ভারসাম্য পুনঃস্থাপন করা হয়। কুমড়ার বীজ ও জিংকযুক্ত খাদ্য এই পদ্ধতির অংশ।
ইলাজ বিদ দাওয়া (ভেষজ ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা)
নির্দিষ্ট ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি ঔষধ প্রয়োগ করা হয়, যা প্রস্রাবের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
ইলাজ বিত তাদবির (নিয়ম-পদ্ধতি দ্বারা চিকিৎসা)
এই পদ্ধতিতে উষ্ণ পানির সিটজ বাথ (নিতম্ব স্নান) এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পরামর্শ দেওয়া হয়, যা তলপেটের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
ইলাজ বিল ইয়াদ (হস্তচালিত চিকিৎসা)
তলপেট ও কোমরের অঞ্চলে নির্দিষ্ট তেল দিয়ে মালিশ করা হয়, যা স্থানীয় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
প্রস্টেট বৃদ্ধিতে কোন ইউনানি ভেষজ উপকারী?
প্রস্টেট বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত ৬টি প্রধান ইউনানি ভেষজ হলো তুখম-এ-কদু (কুমড়ার বীজ), কৌঞ্চ বীজ, শতাবরী, গোখরু, তালমাখনা এবং সালাব মিসরী। এই ভেষজগুলো ঐতিহ্যগতভাবে মূত্রনালীর স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহৃত হয়।
তুখম-এ-কদু বা কুমড়ার বীজ একটি ভেষজ উপাদান, যাতে ফাইটোস্টেরল ও ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে।
জার্মানির GRANU গবেষণায় ১,৪৩১ জন প্রস্টেট বৃদ্ধির রোগীর ওপর ১২ মাস ধরে কুমড়ার বীজের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়েছিল। এই গবেষণায় লক্ষণ স্কোর প্লাসিবোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখায়নি। অন্যদিকে পৃথক একটি সমীক্ষায় কুমড়ার বীজের নির্যাস ব্যবহারে লক্ষণের উন্নতি দেখা গেছে। এই ফলাফলের ভিন্নতার কারণে কুমড়ার বীজকে একক নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে সুপারিশ করা হয় না, বরং সহায়ক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কৌঞ্চ বীজ একটি ভেষজ বীজ, যা ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের যত্নে ব্যবহৃত হয়। শতাবরী একটি মূল-জাতীয় ভেষজ, যা প্রস্রাবতন্ত্রের প্রদাহ কমাতে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়।
গোখরু একটি কাঁটাযুক্ত ফলের ভেষজ, যা মূত্রবর্ধক গুণের জন্য পরিচিত। তালমাখনা একটি বীজ-জাতীয় ভেষজ, যা তলপেটের দুর্বলতা দূর করতে ব্যবহৃত হয়। সালাব মিসরী একটি কন্দ-জাতীয় ভেষজ, যা শক্তিবর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই সকল ভেষজ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক, বিশেষত রক্ত পাতলাকারী ঔষধ সেবনকারী রোগীদের জন্য।
প্রস্টেট বৃদ্ধি প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত?
প্রস্টেট স্বাস্থ্য রক্ষায় ৫টি খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা প্রয়োজন — জিংকসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, ক্যাফেইন সীমিতকরণ, লাল মাংস হ্রাস এবং শাকসবজি বৃদ্ধি।
- জিংকসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা — কুমড়ার বীজ, চিনাবাদাম, ডিম।
- দিনের বেলা পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রাতে পানি পান সীমিত করা।
- ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করা।
- লাল মাংসের পরিমাণ হ্রাস করা।
- টমেটো, ব্রকলি ও পালং শাকের মতো শাকসবজি বৃদ্ধি করা।
প্রস্টেট বৃদ্ধিতে কখন ডাক্তার দেখাবেন?
প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে, সম্পূর্ণ প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে, তীব্র ব্যথা হলে অথবা জ্বরসহ প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
প্রস্টেট বৃদ্ধির লক্ষণ প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণের সাথে মিলে যায়। PSA পরীক্ষা এবং ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা (DRE) সঠিক নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয়। ভেষজ চিকিৎসা শুরুর আগে এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা আবশ্যক।
বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া নিজে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় না। তবে উভয় অবস্থার লক্ষণ একই রকম হওয়ায় চিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিত নির্ণয় জরুরি।
প্রস্টেট বৃদ্ধি সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর
প্রস্টেট বৃদ্ধি কি প্রস্টেট ক্যান্সারে রূপ নেয়?
না, বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয় না। এটি একটি পৃথক অ-ক্যান্সারযুক্ত অবস্থা, তবে উভয়ের লক্ষণ একই রকম হতে পারে বলে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন।
প্রস্টেট বৃদ্ধি কোন বয়সে শুরু হয়?
প্রস্টেট কোষের বৃদ্ধি ৩০ বছর বয়স থেকে শুরু হয় এবং ৫০ বছর বয়সের পর লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। ৮০ বছর বয়সের মধ্যে অধিকাংশ পুরুষের মধ্যে এই অবস্থা দেখা যায়।
প্রস্টেট বৃদ্ধিতে ইউনানি চিকিৎসা কতদিনে ফল দেয়?
ইউনানি চিকিৎসার ফলাফল রোগীর মিজাজ, রোগের তীব্রতা এবং নিয়মিততার ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের আগে হেকিমের সরাসরি পরীক্ষা প্রয়োজন।
কুমড়ার বীজ কি প্রস্টেট বৃদ্ধি নিরাময় করে?
গবেষণায় কুমড়ার বীজ লক্ষণ উপশমে সহায়ক ভূমিকা দেখিয়েছে, তবে এটি একক নিরাময়কারী উপাদান নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সহায়ক খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
প্রস্টেট বৃদ্ধি প্রতিরোধযোগ্য কি না?
সম্পূর্ণ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা যায় না, তবে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকি হ্রাস করা যায়।
প্রস্টেট বৃদ্ধিতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন কখন হয়?
প্রস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে, বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ হলে অথবা কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। এই সিদ্ধান্ত ইউরোলজিস্ট গ্রহণ করেন।
উপসংহার
প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি বয়সজনিত একটি সাধারণ অবস্থা, যার লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করলে ইউনানি খাদ্যতালিকা, ভেষজ ও নিয়ম-পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। প্রস্রাবে রক্ত, তীব্র ব্যথা বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণে দেরি না করে ইউরোলজিস্ট ও অভিজ্ঞ হেকিমের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক নির্ণয়ের পর হেকিম সুলতান মাহমুদের সাথে পরামর্শ করে ব্যক্তিগত মিজাজ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা যায়।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)
১. Mayo Clinic — Benign prostatic hyperplasia (BPH): Symptoms and causes. https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/benign-prostatic-hyperplasia/symptoms-causes/syc-20370087
২. Cleveland Clinic — Benign Prostatic Hyperplasia (BPH). https://my.clevelandclinic.org/health/diseases/9100-benign-prostatic-hyperplasia
৩. Gravas, S. et al. — Treatment of Benign Prostatic Hyperplasia by Natural Drugs. PMC/NCBI. https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC8659259/
৪. Vahlensieck, W. et al. (2015) — Effects of Pumpkin Seed in Men with LUTS due to BPH: GRANU Study. Urologia Internationalis. https://karger.com/uin/article/94/3/286/322765
৫. Tong, Y., Zhou, R. — Review of the Roles and Interaction of Androgen and Inflammation in BPH. PMC/NCBI. https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC7641707/

