যৌন ইচ্ছা কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?যৌন ইচ্ছা বা Libido হলো শারীরিক ও মানসিক উভয় কারণে জন্ম নেওয়া একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রবণতা। পুরুষের যৌন ইচ্ছা মূলত টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা, মানসিক সুস্থতা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের উপর নির্ভরশীল। ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে একে ‘কুওয়াত-ই-বাহ’ বা যৌন শক্তি বলা হয়, যা শরীরের মৌলিক প্রাণশক্তির অংশ। সঠিক খাদ্য, ব্যায়াম, মানসিক শান্তি ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে যৌন ইচ্ছা ও সক্ষমতা উভয়ই বজায় রাখা সম্ভব। |
আজকের ব্যস্ত জীবনে পুরুষের যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। কিন্তু এটি কোনো লজ্জার বিষয় নয় — বরং এটি শরীরের একটি সংকেত যে কোথাও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্র শত শত বছর আগেই চিনেছে যে পুরুষের যৌন শক্তি নির্ভর করে তার খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক অবস্থা, শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের উপর।
এই বিস্তারিত গাইডে আমরা পুরুষের যৌন ইচ্ছা ও সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এমন সব প্রধান বিষয় নিয়ে আলোচনা করব — ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে। পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের জন্য আমাদের বিশেষজ্ঞ প্রবন্ধে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, যেখানে আরও গভীর তথ্য রয়েছে।
যৌন ইচ্ছা কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
যৌন ইচ্ছা বা libido শুধু একটি মানসিক অনুভূতি নয় — এটি একটি জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ফল। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে শুরু হওয়া হরমোনের একটি শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত টেস্টোস্টেরন উৎপাদনকে নিয়ন্ত্রণ করে, যা পুরুষের প্রাথমিক যৌন হরমোন।
যৌন ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করে যা:
- টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা — পুরুষের libido-র প্রধান চালিকাশক্তি
- ডোপামিন ও সেরোটোনিন — মস্তিষ্কের আনন্দ ও পুরস্কার কেন্দ্রের রাসায়নিক
- মানসিক স্বাস্থ্য — উদ্বেগ, বিষণ্নতা সরাসরি যৌন ইচ্ছাকে দমন করে
- শারীরিক স্বাস্থ্য — রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ
- সম্পর্কের মান — আস্থা ও আবেগীয় সংযোগ
- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া — অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, রক্তচাপের ওষুধ
| 🌿 ইউনানি দৃষ্টিভঙ্গি: কুওয়াত-ই-বাহ
ইউনানি চিকিৎসায় ‘কুওয়াত-ই-বাহ’ (যৌন শক্তি) হলো শরীরের সাতটি মূল শক্তির (আরওয়া সাবআ) একটি অপরিহার্য অংশ। এই শক্তির উৎস হলো ‘মনি’ (শুক্র) যা লিভার, হৃদয় ও মস্তিষ্কের সুস্থতার উপর নির্ভরশীল। মেজাজ-ই-হার ওয়া রতব (উষ্ণ ও আর্দ্র স্বভাব) যৌন শক্তির জন্য সবচেয়ে অনুকূল বলে ইউনানি হেকিমরা মনে করেন। |
ইউনানি দৃষ্টিতে পুরুষের যৌন শক্তির উৎস
ইউনানি তিব্বের মূল ভিত্তি হলো আরবাআ আখলাত — চারটি হিউমার বা শারীরিক রস: দম (রক্ত), বলগম (কফ), সফরা (পিত্ত) ও সওদা (কৃষ্ণ পিত্ত)। এই চারটির ভারসাম্য শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য এবং বিশেষভাবে যৌন শক্তি নির্ধারণ করে।
মেজাজ ও যৌন শক্তির সম্পর্ক:
| মেজাজ | যৌন শক্তিতে প্রভাব | প্রতিকার |
| হার ওয়া রতব (উষ্ণ-আর্দ্র) | সর্বোত্তম যৌন শক্তি, সক্রিয় কামনা | এই মেজাজ বজায় রাখুন |
| বারিদ ওয়া ইয়াবিস (শীতল-শুষ্ক) | যৌন ইচ্ছা কম, শুক্রাণু দুর্বল | উষ্ণকারী খাদ্য ও ওষুধ |
| হার ওয়া ইয়াবিস (উষ্ণ-শুষ্ক) | তীব্র কামনা কিন্তু দীর্ঘস্থায়িত্ব কম | আর্দ্রকারী খাদ্য, বিশ্রাম |
| বারিদ ওয়া রতব (শীতল-আর্দ্র) | যৌন দুর্বলতা, শীঘ্রপতন | উষ্ণ ও শুষ্ককারী উপাদান |
| হেকিম সুলতান মাহমুদের পরামর্শ
পুরুষের যৌন শক্তি একটি নবায়নযোগ্য সম্পদ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত ঘুম, মানসিক শান্তি এবং হেলাল জীবনযাপনের মাধ্যমে যেকোনো বয়সে যৌন সক্ষমতা উন্নত করা সম্ভব। ইউনানি চিকিৎসায় আমরা শুধু উপসর্গ নয়, মূল কারণটি চিহ্নিত করে চিকিৎসা করি। |
যৌন ইচ্ছা ও সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এমন প্রধান বিষয়গুলি
পুরুষের যৌন জীবনকে প্রভাবিত করে এমন বিষয়গুলি বহুমাত্রিক। নিচে প্রতিটি প্রধান বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো এবং প্রতিটির জন্য আমাদের বিস্তারিত প্রবন্ধের লিংক দেওয়া হয়েছে।
খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা
‘তোমার খাবারই তোমার ওষুধ’ — এই প্রাচীন প্রবাদ আজও সত্য। যা খাচ্ছেন তা সরাসরি আপনার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা, রক্ত সঞ্চালন এবং শক্তির স্তরকে প্রভাবিত করছে।
যৌন শক্তিবর্ধক প্রধান খাবারসমূহ:
- অশ্বগন্ধা ও আলকুশি — ইউনানি ও আয়ুর্বেদের সর্বোচ্চ যৌন টনিক
- মেথি বীজ — টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিতে PubMed-প্রমাণিত কার্যকর
- খেজুর ও মধু — দ্রুত শক্তি এবং যৌন উদ্দীপনা
- কুমড়োর বীজ — জিংকের সেরা উৎস, শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়ক
- ডার্ক চকোলেট — নাইট্রিক অক্সাইড বৃদ্ধি করে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে
- রসুন — অ্যালিসিন রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
- ডিম ও মাংস — L-আর্জিনিন ও জিংকের প্রাকৃতিক উৎস
শারীরিক ব্যায়ামের প্রভাবনিয়মিত ব্যায়াম পুরুষের যৌন সক্ষমতার উপর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যায়াম টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে ইস্ট্রোজেনের আধিপত্য হ্রাস করে। |
সর্বাধিক কার্যকর ব্যায়াম:
- কেগেল ব্যায়াম — পেলভিক ফ্লোর পেশী শক্তিশালী করে, অকাল বীর্যপাত ও ইরেকশন সমস্যায় সবচেয়ে কার্যকর
- স্কোয়াট ও ডেডলিফট — টেস্টোস্টেরন উৎপাদনকারী শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম
- কার্ডিও ব্যায়াম (দৌড়, সাইকেল) — হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী সুস্থ রাখে
- যোগব্যায়াম — মানসিক চাপ কমায়, শরীরের নমনীয়তা বাড়ায়
- পুশ-আপ ও প্ল্যাংক — কোর মাসেল শক্তিশালী করে
মানসিক চাপ যেভাবে যৌন স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে:
- কর্টিসল ↑ → টেস্টোস্টেরন ↓ → যৌন ইচ্ছা হ্রাস
- উদ্বেগ ও performance anxiety → ইরেকশন সমস্যা
- বিষণ্নতা → মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের ভারসাম্যহীনতা
- দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা → গ্রোথ হরমোন ও টেস্টোস্টেরন উভয়ই কমে
- সম্পর্কের অবিশ্বাস বা দূরত্ব → মনোযৌন সংকট
মানসিক চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাবমানসিক চাপ বা stress পুরুষের যৌন ইচ্ছার সবচেয়ে বড় শত্রু। যখন আপনি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে থাকেন, শরীর কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ করে — যা সরাসরি টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এটি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বিপরীত সম্পর্ক। |
ধূমপান ও মদ্যপানের ক্ষতিকর প্রভাব
ধূমপান ও অ্যালকোহল — এই দুটি অভ্যাস পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে ধূমপায়ী পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি ধূমপানবিরত পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
নিকোটিন যেভাবে ক্ষতি করে:
- রক্তনালী সংকুচিত করে → লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে → ইরেকশন দুর্বল
- অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে → শুক্রাণুর DNA ক্ষতিগ্রস্ত
- টেস্টোস্টেরন রিসেপ্টরকে নিষ্ক্রিয় করে
অ্যালকোহল যেভাবে ক্ষতি করে:
- লিভারে টেস্টোস্টেরন বিপাক বাধাগ্রস্ত হয়
- স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল করে → অনুভূতি হ্রাস
- দীর্ঘমেয়াদে শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত
প্রচলিত ভুল ধারণা:
|
ইউনানি মত অনুযায়ী ইসরাফ (অতিরিক্ততার) ক্ষতি:
- অতিরিক্ত বীর্যপাত মনি (vital essence) ক্ষয় করে
- শরীরকে দুর্বল করে, মেজাজ শীতল ও শুষ্ক করে
- দীর্ঘমেয়াদে পিঠে ব্যথা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস
যৌন ইচ্ছা কমে গেলে কী করবেন?
যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া মানেই জীবন শেষ নয়। সঠিক চিহ্নিতকরণ ও পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণরূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রথমেই বুঝতে হবে — এটি কি শারীরিক কারণে, মানসিক কারণে, নাকি জীবনযাপনগত কারণে হচ্ছে।
প্রাথমিক পদক্ষেপ (জীবনযাপন পরিবর্তন):
- প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা মানসম্পন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন
- সকালে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন — বিশেষত স্কোয়াট ও কেগেল
- চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন
- অ্যালকোহল ও ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ করুন
- মেডিটেশন বা গভীর শ্বাসের অভ্যাস গড়ুন
- সঙ্গীর সঙ্গে উন্মুক্ত যোগাযোগ রাখুন
ইউনানি প্রতিকার:
- অশ্বগন্ধা চূর্ণ (৫ গ্রাম) দুধের সঙ্গে রাতে — টেস্টোস্টেরন ও কুওয়াত-ই-বাহ বৃদ্ধি
- সাফেদ মুসলি — শ্বেত মুসলি, শ্রেষ্ঠ যৌন টনিক
- শিলাজিৎ (প্রকৃত) — শক্তি ও যৌন সক্ষমতা উভয়ই বাড়ায়
- মাজুন মুকাভ্বি — হেকিম সুলতান মাহমুদের তৈরি বিশেষ যৌন টনিক ফর্মুলা
- হব্বে মুকাভ্বি — দ্রুত কার্যকর যৌন শক্তিবর্ধক বড়ি
ঘুম ও যৌন স্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
পুরুষের টেস্টোস্টেরনের ৭০–৮০% রাতের ঘুমের সময় নিঃসৃত হয় — বিশেষত গভীর REM ঘুমের পর্যায়ে। মাত্র একরাত ৫ ঘণ্টার কম ঘুম হলেও পরদিন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১০–১৫% হ্রাস পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা পুরুষের যৌন জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
| 🌿 ঘুমের জন্য ইউনানি পরামর্শ
ইউনানি তিব্বে ‘নওম’ (ঘুম) কে ছয়টি অপরিহার্য জীবনকারণের (আসবাব সিত্তা জারুরিয়া) একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর রাতের খাবার খেয়ে এশার নামাজের পর ঘুমানো এবং ফজরের আগে উঠে পড়া — এই প্যাটার্ন শরীরের হরমোনীয় ঘড়িকে সর্বোত্তম রাখে। |
হেকিম সুলতান মাহমুদের বিশেষ পরামর্শ
দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখেছি — বেশিরভাগ পুরুষ যারা যৌন দুর্বলতা নিয়ে আসেন, তাদের সমস্যার মূলে থাকে তিনটি জিনিস: ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং পুষ্টিহীন খাদ্যাভ্যাস। কোনো ওষুধ বা হার্বাল সাপ্লিমেন্ট এই তিনটি ঠিক না করে দীর্ঘমেয়াদী ফল দিতে পারবে না।
দৈনন্দিন রুটিন (ইউনানি সুপারিশকৃত):
| সময় | কাজ ও পরামর্শ |
| ভোরবেলা (ফজর) | ফজরের পর ৩০ মিনিট হাঁটা, ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে কুরআন তেলাওয়াত — মনকে সতেজ রাখে |
| সকাল ৭–৮টা | নাশতা: খেজুর + বাদাম + দুধ বা ডিম, অশ্বগন্ধা চূর্ণ এক চা চামচ মধুর সঙ্গে |
| সকাল ৯–১০টা | কেগেল ব্যায়াম (৩ সেট × ১০ রিপ), স্কোয়াট বা হাঁটা |
| দুপুর | ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন, সবজি ও প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার খান |
| বিকেল ৩–৫টা | সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম, হালকা কার্ডিও বা স্ট্রেচিং |
| রাত ৮–৯টা | হালকা রাতের খাবার, মেটে/লিভার বা সামুদ্রিক মাছ হলে ভালো |
| রাত ১০টার আগে | স্ক্রিন সরিয়ে ঘুমের প্রস্তুতি, শিলাজিৎ বা সাফেদ মুসলি দুধের সঙ্গে |
বয়সের সাথে সাথে যৌন ইচ্ছার পরিবর্তন
পুরুষের টেস্টোস্টেরন ৩০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর গড়ে ১–২% হারে কমে। তবে এটি অনিবার্য বার্ধক্যের চিহ্ন নয় — এটি জীবনযাপনের প্রতিফলন। সুস্থ জীবনযাপন করলে ৬০ বছর বয়সেও শক্তিশালী যৌন জীবন সম্ভব।
| বয়স | স্বাভাবিক অবস্থা | ইউনানি পরামর্শ |
| ২০–৩০ | সর্বোচ্চ টেস্টোস্টেরন, শক্তিশালী যৌন ইচ্ছা | সুস্থ অভ্যাস গড়ুন, অপব্যয় এড়িয়ে চলুন |
| ৩০–৪০ | হালকা হ্রাস শুরু, চাপের প্রভাব বাড়ে | ব্যায়াম ও পুষ্টিতে মনোযোগ দিন |
| ৪০–৫০ | স্পষ্ট পরিবর্তন, Andropause শুরু | অশ্বগন্ধা, শিলাজিৎ, মেথি সাপ্লিমেন্ট |
| ৫০+ | টেস্টোস্টেরন উল্লেখযোগ্য কম | ইউনানি হেকিমের পরামর্শে চিকিৎসা |
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: পুরুষের যৌন ইচ্ছা কেন কমে যায়?
উত্তর: যৌন ইচ্ছা কমার প্রধান কারণগুলি হলো: টেস্টোস্টেরন হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অনিদ্রা, অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, দীর্ঘমেয়াদী রোগ (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ) এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ইউনানি মতে মেজাজ-ই-বারিদ (শীতল স্বভাব) ও সওদা আধিক্যও কারণ হতে পারে।
প্রশ্ন: যৌন ইচ্ছা বাড়ানোর সেরা প্রাকৃতিক উপায় কী?
উত্তর: সেরা প্রাকৃতিক উপায়গুলি হলো: পর্যাপ্ত ঘুম (৭–৮ ঘণ্টা), নিয়মিত ব্যায়াম (বিশেষত স্কোয়াট ও কেগেল), জিংক ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য, অশ্বগন্ধা ও মেথি সাপ্লিমেন্ট, মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা এবং ধূমপান-মদ্যপান পরিহার।
প্রশ্ন: কোন খাবার দ্রুত যৌন শক্তি বাড়ায়?
উত্তর: দ্রুত কার্যকর খাবারের মধ্যে রয়েছে খেজুর ও মধু (দ্রুত শক্তি), কলা (সেরোটোনিন ও পটাসিয়াম), ডার্ক চকোলেট (নাইট্রিক অক্সাইড), কাঁচা রসুন (রক্ত সঞ্চালন), এবং ডিমের কুসুম (কোলেস্টেরল থেকে টেস্টোস্টেরন তৈরি)।
প্রশ্ন: মানসিক চাপ কি সত্যিই যৌন সক্ষমতা কমায়?
উত্তর: হ্যাঁ, একদম সত্য। মানসিক চাপে কর্টিসল হরমোন বাড়ে, যা টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন সরাসরি বাধা দেয়। এছাড়া উদ্বেগ থেকে Performance Anxiety তৈরি হয় যা ইরেকশন সমস্যার একটি বড় কারণ।
প্রশ্ন: হস্তমৈথুন কি যৌন দুর্বলতা তৈরি করে?
উত্তর: পরিমিত হস্তমৈথুন যৌন দুর্বলতা তৈরি করে না — এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। তবে ইউনানি চিকিৎসায় অতিরিক্ততা বা ‘ইসরাফ’কে ক্ষতিকর মনে করা হয় কারণ এটি মনি (vital essence) অতিরিক্ত ক্ষয় করে।
প্রশ্ন: ধূমপান ছাড়লে কি যৌন শক্তি ফিরে আসে?
উত্তর: হ্যাঁ, ধূমপান ছাড়ার পর রক্তনালী ধীরে ধীরে প্রশস্ত হতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান ত্যাগের ৩ মাসের মধ্যে যৌন কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।
প্রশ্ন: কোন বয়স থেকে যৌন ইচ্ছা কমতে শুরু করে?
উত্তর: সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর থেকে টেস্টোস্টেরন বার্ষিক ১–২% হারে কমতে শুরু করে। তবে সুস্থ জীবনযাপন ও সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে এই হ্রাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে রাখা সম্ভব।
✍ লেখক পরিচিতি
হেকিম সুলতান মাহমুদ
ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক | প্রতিষ্ঠাতা, Salihat Food
হেকিম সুলতান মাহমুদ বাংলাদেশের দুমুরিয়া, খুলনা থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার আধুনিক প্রয়োগে বিশেষজ্ঞ। তার প্রতিষ্ঠান Salihat Food বাংলাদেশে প্রাকৃতিক হার্বাল পণ্য তৈরি ও বিতরণে নিয়োজিত।
বৈজ্ঞানিক তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
- Leproult, R., & Van Cauter, E. (2011). Effect of 1 week of sleep restriction on testosterone levels in young healthy men. JAMA, 305(21), 2173–2174. PMID: 21632481
- Wehr, E., et al. (2010). Association of vitamin D status with serum androgen levels in men. Clinical Endocrinology, 73(2), 243–248. PMID: 20050857
- Sharma, A., et al. (2013). Efficacy and safety of Ashwagandha root extract in improving testosterone and reproductive health. Evidence-Based Complementary and Alternative Medicine. PMID: 23796876
- Kovac, J.R., et al. (2015). The effects of cigarette smoking on male fertility. Postgraduate Medicine, 127(3), 338–341. PMID: 25697426
- Shukla, K.K., et al. (2010). Mucuna pruriens improves male fertility by its action on the hypothalamus–pituitary–gonadal axis. Fertility and Sterility, 92(6), 1934–1940. PMID: 19501207
- Paduch, D.A., et al. (2008). Testosterone levels in men with chronic low-level alcohol consumption. Andrologia, 40(5), 317–322.

